রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে তাকে ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে (সিএমএম) নেওয়া হয়। আদালতের নেওয়ার পর ফখরুলকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তার স্ত্রী এবং মেয়ে দেখা করতে চাইলেও এখনও অনুমতি পাননি।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে বিএনপি মহাসচিবকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
সকালে আটকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম জানান, সকালে ডিবি পুলিশের লোকজন বাসায় এসে মির্জা ফখরুল ইসলাসহ বাসার সবার সাথে কথা বলে, এরপর বাসা এবং ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হার্ডডিস্ক নিয়ে চলে যায়। ঠিক দশ মিনিট পর আবার ফিরে এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের বয়স ৭৫ বছর তিনি প্রচন্ড অসুস্থ, তার চিকিৎসা চলছিলো। তাকে এভাবে নিয়ে যাবে মেনে নিতে পারছি না। আশা করবো যদি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তা করে যেনো তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শনিবার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশ চলাকালে কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় দলটির কর্মীদের। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। শান্তিনগর, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং দৈনিক বাংলা মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ বক্সে আগুন দেয় বিএনপিকর্মীরা। পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে আগুন দেওয়া হয় অ্যাম্বুলেন্সে, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করা হয় আরও ডজনখানেক যানবাহন।
দৈনিক বাংলা মোড়ে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপি কর্মীরা।
এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৪১ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের মধ্যে বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার হরতালের সকালে গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।
