দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের এক হাজার ৩১ বিশিষ্টজন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক সময়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস থেকে মুক্ত হয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সাংবিধানিক পথচলা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান; স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। তাই, চলমান গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে, সংবিধান সম্মতভাবে ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানাই।
একইসাথে এই তফসিল অনুসারে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানাই উদাত্ত আহ্বান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে নাগরিক সমাজ।
বিশিষ্টজনেরা জানান, আমরা লক্ষ্য করেছি, গত ১৫ নভেম্বর সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়, এরপর থেকেই রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে সহিংসতা শুরু করেছে একটি অশুভ চক্র। পোড়ানো হচ্ছে গাড়ি, পেট্রোল বোমা ছোড়া হচ্ছে যত্রতত্র। অবরোধ-হরতালের নামে আগুন-সন্ত্রাস ও সহিংসতার ভুক্তভোগী হচ্ছে কৃষিজীবী-দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
পরিবহন সংকটের কারণে একদিকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা, অন্যদিকে সরবরাহ স্বল্পতার কারণে অতিরিক্ত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিক্ষাঙ্গনেও।
এমনকি একটি নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে বিদেশী লবিস্টদের মাধ্যমে দেশবিরোধী নানান রকম অপপ্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। শুধু তাই নয়, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ করানোর জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা প্রকারান্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকিস্বরূপ। আমরা এই ধরণের অপপ্রয়াসের তীব্র নিন্দা জানাই। একইসাথে, বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এসব জনস্বার্থ ও দেশবিরোধী তৎপরতা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এখন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই জঙ্গিবাদমুক্ত, মানবিক ও গতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
এতে উল্লেখ করা হয়, তফসিল ও নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে গত ২৯ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ২৭৫টি যানবাহন, ২৪টি স্থাপনাসহ মোট ৩১০টি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ২৯০টি যানবাহন, ১৭টি স্থাপনা ও ৬৯টি অন্যান্যসহ মোট ৩৭৬টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে দেশের লোকসান হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ২০১৩-১৪-১৫ এবং ২০১৮ সালের মতো একই ধরণের সন্ত্রাসী তৎপরতার পুনরাবৃত্তির শক্ত প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। সরকার ও গণমানুষের অদম্য প্রচেষ্টায় দেশের পরিস্থিতি এখন অনেক বদলে গেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা মোটেও কাম্য নয় এখন।
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এখন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই জঙ্গিবাদমুক্ত, মানবিক ও গতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা আশা করি, জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে রাজনীতির নামে বন্ধ হবে সন্ত্রাস, কল্যাণমুখী রাজনীতির দিকে ধাবমান হবে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল। সংবিধান অনুসারে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দেবে নির্বাচন কমিশন। বিজয় হবে গণতন্ত্রের। জয় হবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন
রিয়্যাল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুর রহমান খোকন, ইয়াবের সভাপতি নিয়ামত উল্ল্যা বাবু, জাতীয় ইয়ুথ কাউন্সিলের সভাপতি মো. মাসুদ আলম, স্বপ্নকথা যুব ও নারী কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আলিম মিয়াজী, আমরা করবো জয় এর সভাপতি শাহালম শিকদার জয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম শিকদার, যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আসাদুল হক আসাদ, ২১ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা সভাপতি সুমনা আফরিন, ন্যাচারাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি পায়েল আক্তার নুপুর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব কার্ডিয়াক সার্জারির অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান মিলন, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বিভাগ অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত , অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, বর্তমান উপাচার্য,অধ্যাপক ডা. মো: শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লা, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক সাচ্চু, ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অসিত বরণ অধিকারী। নাট্যকার, আবৃত্তিকার ও সংগঠক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সংসদ সদস্য এবং আইনজীবী অ্যারোমা দত্ত, লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)সহ ১০৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
