নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি শান্তিপূর্ন আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে অনুষ্ঠিত বিএনপি ইফতার আয়োজন করে।
ওই অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে। আন্তর্জাতিক মানহীন সাতই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই ও সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন চাই।
তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ন আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
এই আয়োজনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ইংরেজিতে লিখিত বক্তব্যে ফখরুল কূটনীতিকদের বলেন, অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি-যার মধ্য দিয়ে প্রকৃতভাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যেতে পারে। যতক্ষণ না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এটা অর্জন করতে না পারি, ততক্ষণ জনগণের শান্তিপূর্ণ ও অসহিংস আন্দোলন চলবে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বাহিনীর অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিএনপি গভীরভাবে অবহিত বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি উল্লেখ করেন, দুই রাষ্ট্রের কৌশলেই এই সংকটের সমাধান হতে পারে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ গভীরভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকাল অতিক্রম করছে। রাষ্ট্র আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে। বিশ্ববাসী জানেন, গত ৭ জানুয়ারি যা হয়েছে, তা কোনো নির্বাচন নয়। বরং জাতির গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে অপমান করা হয়েছে।
বিএনপির ইফতারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদুসহ নেতারা অংশ নেন। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইফতারে জাতিসংঘ, এনডিআই, আইআরআই এবং ৩৮টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
