দীর্ঘ ছয় হাজার ৩১৪ দিনের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এই ফোনালাপের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে আমার নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ফোনালাপের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে দোয়া চান এবং সালাম দিয়ে কথা শেষ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ফোনালাপকে দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক ও সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে, তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকা আসার পথে বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নেন দলের শীর্ষ নেতারা।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেই তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান বর্তমানে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনার পথে রয়েছেন। সেখানে ভাষণ শেষে তিনি অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন এবং পরবর্তীতে গুলশানে তাঁর পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন।
