বাংলাদেশে এই প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনায় বাবা ও মায়ের পর, তাদের ছেলেও দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। জিয়া পরিবারের অনন্য এই রের্কড বিশ্বে খুব বেশি নেই। ভারতে নেহেরু-গান্ধী পরিবার, পাকিস্তানে ভুট্টো পরিবার, শ্রীলঙ্কায় সিরিমাভো বন্দরনায়েকে, থাইল্যান্ডে সিনাওয়াত্রা পরিবার এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং পরিবারের তিনজন করে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন তারেক রহমানের মাতা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া তিন দফা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। মা, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস জয়লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য তারেক রহমান।।
ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারত স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু। বাবার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হন মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮৪ সালের মা ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধী।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। ১৯৭৯ সালে পিতাকে ফাঁসি দেয়ার পর পিপিপির হাল ধরেন তার কন্যা বেনজীর ভুট্টো।
বেনজীর বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৮৮ সালে। ২০০৭ সালে সমাবেশে গুলি করে হত্যার পর বেনজীর ভূটোর স্বামী আসিফ আলী জারদারি পিপিপির দায়িত্বে আসেন। যিনি বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
এস ডব্লিউ আ রডি বন্দরনায়েকে ছিলেন শ্রীলঙ্কার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৯ সালে স্বামীকে হত্যার পর রাজনীতিতে আসের তার স্ত্রি সিরিমাভো বন্দেরনায়েক এবং প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৬০ সালে। তিনি বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৪ সালে সিরিমাভো প্রধানমন্ত্রী হন, একই সময় রাষ্ট্রপতি হন সিরিমাভোর কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা।
থাইল্যান্ডে থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবারের তিনজন রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করেন। ২০০৬ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রাও ২০১১ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। সিনাওয়াত্রার সন্তান পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রা এখন দেশটিতে প্রদানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উত্তর কোরিয়ায় কমিউনিস্ট ধাঁচের একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু আছে। দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা হলেন কিম জং-উন। তার পিতা কিম জং-ইল এবং তার দাদা কিম ইল-সুং ছিলেন উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা। কিম ইল-সুং ছিলেন দেশটির প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০ বছর পর সরকারে বিএনপি
তিন বছরে তিন সরকার: শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন