এক ম্যাচ হাতে রেখেই সফররত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টো-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সোমবার ৪১ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ দশমিক ৩ ওভারে ১০৩ রানেই গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। জবাবে ৪১ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দেখেশুনে শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ ও ইমন। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ভাঙে তাদের জুটি। ক্লেইনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বটম এজ হয়ে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন ইমন, ২১ বলে করেন ২৩ রান, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা।
ইমন ফেরার পর লিটনের সঙ্গে জুটি গড়েন তামিম। ১২তম ওভারে রেকর্ডও গড়েন এই ওপেনার। ২০২৫ সালে এ সংস্করণে তানজিদের ছক্কা এখন ২৩টি। পারভেজ মেরেছেন ২২টি। রেকর্ড ভাঙা ছক্কাটি তানজিদ মেরেছেন ম্যাক্স ও’ডাউডকে মিড উইকেট দিয়ে। এরপর হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি এটি তার। তার দুর্দান্ত ইনিংসে সহজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত শুরু করেন বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। শুরুতেই দুটি উইকেট তুলে নেন। নাসুমের স্পিন ঘূর্ণিঝড়ে ওপেনার ও'ডাউড ৮ রান এবং তেজা গোল্ডেন ডাক মেরেন।
নাসুমের জোড়া উইকেট শিকারের পর অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে ২১ রান তুলে ফেলেন বিক্রমজিৎ সিং। নাসুমের করা পঞ্চম ওভারে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখান এই ব্যাটার, দুটি চারও হাঁকান। সেই ওভারে মোট ১২ আসে। তবে এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট এনে দেন তাসকিন আহমেদ।
গতিতে বিভ্রান্ত করে ডাচ ওপেনার বিক্রমজিৎ সিংকে শিকার বানান তাসকিন। এরপর ইনিংসের নবম ওভারে বোলিংয়ে এসেই সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে ফিরিয়ে দেন সাজঘরে। ১১ বল মোকাবেলায় ৯ রান করেন এডওয়ার্ডস।
দুই দফা সহজ রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করলেও তৃতীয় প্রচেষ্টায় সফল হয় বাংলাদেশ। শর্ট মিডউইকেট থেকে সাইফ হাসানের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন ডাচ ব্যাটসম্যান নোয়াহ ক্রস। টেলিভিশন রিপ্লে দেখে তাকে আউট ঘোষণা করেন তৃতীয় আম্পায়ার সাথিরা জাকির।
এর ঠিক পরের বলেই ডাচদের আরও একটি ধাক্কা দেন তানজিম হাসান। তার বলে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন শারিজ আহমেদ। বাংলাদেশকে সপ্তম উইকেট এনে দেন দ্য ফিজ সিকান্দার জুলফিকারকে বোল্ড করেন বাঁ-হাতি এই পেসার। এরপর স্বাগতিকদের অষ্টম উইকেট এনে দেন তাসকিন।
কিছুক্ষণ পরই পল ফন মিকেরেনকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন নাসুম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। ক্লেইন ও মিকেরেন দ্রুত ফিরলে ১০০ রান ছোঁয়াও কঠিন হয়ে পড়ে ডাচদের। তবে আরিয়ান দত্তের ৩০ রানের সুবাদে তিন অঙ্ক ছুঁতে সক্ষম হয় দলটি। শেখ মেহেদীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আরিয়ান। এতে ১০৩ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। নাসুম ৩টি, তাসকিন ও মুস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নেন।
