টি-টিয়োন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় পাকিস্তানের সমালোচনা মুখর হলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। অনেকের ধারণা থাকলেও সঞ্জয় মাঞ্জরেকার বিশ্বাস করেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যদি না-ও হয়, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্ব কমবে না বা বিশ্ব ক্রিকেট খুব একটা পিছিয়ে পড়বে না।
কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মাঠে না নামার’ সরকারি সিদ্ধান্তে ম্যাচটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি মোহসিন নকভি ও পিসিবিকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। আগামী ১০ দিনে অনেক আলোচনা বা সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনা থাকলেও, মাঞ্জরেকার মনে করেন দুই পক্ষ কোনো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিশেষ কিছু যায় আসে না। এর কারণ হিসেবে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটের মানের আকাশছোঁয়া পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে মাঞ্জরেকার বলেন, যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না-ও হয়, তাতে আমার কাছে বড় কোনো ব্যাপার নয়। সত্যি বলতে, দীর্ঘ সময় ধরে আপনারা দেখেছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আগে যেমন উত্তেজনা ও নাটকীয়তা দেখা যেত, মাঠের লড়াই এখন আর সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না। এর কারণটাও খুব স্পষ্ট- ভারত এবং পাকিস্তান এখন আর একই লিগের দল নয়। ৯০-এর দশকে বা তার আগে লড়াইটা উপভোগ্য ছিল কারণ পাকিস্তান তখন শক্তিশালী দল ছিল। এখন আর তারা তেমন নেই। তাই এই বিশ্ব আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে খুব একটা সমস্যা দেখছি না।
মাঞ্জরেকার বরং জোর দিয়ে বলেন, দর্শকদের ফোকাস হওয়া উচিত ভারত বনাম সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ নিয়ে, যা দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে এবং বাস্তব চিত্রও তাই। ভারত-পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আর আগের মতো নেই। ৯০-এর দশক বা ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে দুই দল একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে যেভাবে আপ্রাণ লড়াই করত, সেই দিন এখন অতীত।
প্রকৃতপক্ষে, গত ১০ বছরে পাকিস্তান ভারতকে মাত্র তিনবার হারিয়েছে- ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল, ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের এশিয়া কাপে। বিপরীতে ভারত প্রতি পদক্ষেপে আধিপত্য বিস্তার করেছে, এমনকি গত সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপে টানা তিনবার হারিয়েছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো আইসিসি ইভেন্টে ভারতকে বরাবরই দুশ্চিন্তায় ফেলেছে এবং এই ম্যাচগুলোতেই রোহিত-বিরাটদের চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হবে। মাঞ্জরেকার জনগণকে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের মোহ ত্যাগ করে সেই শক্তিশালী দলগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন, যাদের বিপক্ষে জয়ের ওপর ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ভর করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এখনও আপনার সামনে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকা রয়েছে। এগুলোই দেখার মতো ম্যাচ। ভারতকে এসব দলকে হারাতে হবে যেন আমরা গর্ববোধ করতে পারি। ৯০-এর দশকে পাকিস্তান হারিয়ে হয়তো খুব ভালো লাগত, কিন্তু এখন ভারত যখন পাকিস্তানকে হারায়, তখন মনে হয় ভারত কোনো ছোট দলকে হারাল।
পাকিস্তানের মান কতটা নিচে নেমেছে এটিই তার প্রমাণ। আমি এশিয়া কাপেও তা দেখেছি। ভারতের ক্রিকেট ব্যবস্থা থেকে যে তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে আসছে, তাদের সাথে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের তুলনা করলেই বোঝা যায়- পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল।
মাঞ্জরেকারের মতে, আমার কাছে ভারত বনাম পাকিস্তান এখন একটি সাধারণ ঘটনা । ম্যাচটি না হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। কেউ ওয়াকওভার পাক বা ম্যাচ পরিত্যক্ত হোক তা কারোরই কাম্য নয়, তবে আমি মনে করি না যে এতে আসরের গুরুত্ব কমবে। ওই চারটি বড় দল খেললে ভারত-পাকিস্তান নিয়ে কেউ ভাববে না।
