ক্রিকেটকে বলা হয় গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। সেই কথা আরও একবার প্রমাণিত হলো ভারতের আহমেদাবাদে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বুধবার ডি-গ্রুপের একটি চরম নাটকীয় এক ম্যাচে আফগানিস্তানকে দ্বিতীয় সুপার ওভারে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নির্ধারিত ওভার শেষে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ায় ম্যাচটি টাই হয়।
ম্যাচের শেষ বলে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য যখন রানের প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই ফজলহক ফারুকি রানআউট হয়ে গেলে ম্যাচটি টাই হয়। দুই দলেরই সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৭ রান।

প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান ১৭ রান সংগ্রহ করে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিততে হলে শেষ বলে ৬ রান করতে হতো। ফজলহক ফারুকি জয়ের খুব কাছে থাকলেও, ট্রিস্টান স্টাবস শেষ বলে ছক্কা মেরে স্কোর আবারও টাই করে দেন।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রান তোলে। ডেভিড মিলার এবং স্টাবস মিলে মোট তিনটি ছক্কা হাঁকান। জবাবে বল হাতে কেশব মহারাজ শুরুতেই একটি উইকেট এবং দুটি ডট বল দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। শেষ চার বলে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ রান, অর্থাৎ প্রতিটি বলেই ছক্কা।

এই কঠিন সমীকরণে হাল ধরেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। এর আগে মূল ম্যাচে ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা এই ওপেনার টানা তিনটি ছক্কা মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান। কেশব মহারাজের একটি 'ওয়াইড' বল লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনলে আরও একটি টাইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে শেষ বলে গুরবাজ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচে ২৬ রানে ৩ উইকেট এবং প্রথম সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য লুঙ্গি এনগিডি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
ম্যাচ শেষে এনগিডি বলেন, আজ উত্তেজনায় আমার ওজন অনেকটাই কমে গেছে। ক্রিকেট ম্যাচে আগে কখনও এতটা চাপে থাকিনি। আমাদের ব্যাটারদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে দুটি সুপার ওভারে জয় পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"

দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে তাদের প্রথম ম্যাচে কানাডাকে হারিয়েছিল। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে আফগানিস্তান টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল। শক্তিশালী তিন দল সমৃদ্ধ এই গ্রুপ থেকে তাদের পরবর্তী রাউন্ডে (সুপার এইট) যাওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ বললেই চলে।
প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দলই কেবল পরের রাউন্ডে অগ্রসর হবে।দক্ষিণ আফ্রিকা দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারালে বা বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও তারা পরের রাউন্ডে চলে যাবে। আর আফগানিস্তান টানা দুই হার এবং গ্রুপে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দল থাকায় তাদের সুপার এইটে যাওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭/৬ (রিকেলটন ৬১, ডি কক ৫৯; ওমরজাই ৩-৪১, রাশিদ ২-২৮) এবং আফগানিস্তান ১৮৭ (গুরবাজ ৮৪; এনগিডি ৩-২৬) এর মধ্যকার ম্যাচটি টাই হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভ করে।
