বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক এই মহূর্তে জার্মানি ফুটবল দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রুডি ফোলার তাঁর খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে এক সাফ এবং কড়া বার্তা দিয়েছেন, বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে মাঠের পারফরম্যান্স বাদ দিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য বা বিতর্কে জড়ানো চলবে না।
উত্তর বাভারিয়ায় জার্মানির প্রাক-বিশ্বকাপ কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি তারকা বলেন, খেলোয়াড়দের ওপর কোনো ‘মুখ বন্ধের নির্দেশ’ জারি করা না হলেও, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে কিছুটা আলাদা রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
রুডি ফোলার নিশ্চিত করেছেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মতো এবার খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কোনো মিডিয়া ট্রেনিং বা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলার বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না।

৬৬ বছর বয়সী এই সাবেক স্ট্রাইকার বলেন, যদি কোনো খেলোয়াড় রাজনৈতিক বক্তব্য দিতেই চায়, তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের এই সময়টাতে তারা তা করতে পারে। তবে এ পর্যন্ত যদি কেউ তেমন কিছু না করে থাকে, তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে নতুন করে এসব শুরু করা একদমই উচিত হবে না।
জার্মান টিম ম্যানেজমেন্ট আসলে চাইছে চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে। কাতারে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে জার্মান শিবিরে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কই বেশি দানা বেঁধেছিল।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে প্রাক-ম্যাচ ফটোসেশনে জার্মানির খেলোয়াড়রা হাত দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। ফিফা কর্তৃক সমকামীদের সমর্থনে ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ড পরার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আইকনিক ওই কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন ন্যুয়ার-মুলাররা।

অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, মাঠের বাইরের সেই অতিরিক্ত রাজনৈতিক চর্চাই কাতারে জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকে লজ্জাজনক বিদায়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ফোলার বলেন, দলের খেলোয়াড়রা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। বর্তমান স্কোয়াডের একটা বড় অংশই কাতারে সেই দলের সদস্য ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, আমরা অতীতে যা ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না, অর্থাৎ ম্যাচের ঠিক আগে নানা ধরণের ক্যাম্পেইন শুরু করা বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে সমালোচনামূলক ইন্টারভিউ দেয়া এবার আর চলবে না।
ফোলার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কৌতুক করে বলেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করার কাজটা মিডিয়ার, খেলোয়াড়দের নয়। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি মনে করেন, ক্রীড়াবিদদের রাজনৈতিক অবস্থান আদতে বিশ্ব রাজনীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। 
উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বয়কটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি এবং এটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা ফুটবলার, আমাদের লক্ষ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা দুশ্চিন্তা থেকে তাদের কিছুটা বিনোদন বা স্বস্তি দেওয়া। সব অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দূরে সরিয়ে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সুন্দর, আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা এবং ভক্তদের মন জয় করা। ১৯৮০ সালের অলিম্পিকে যখন আমেরিকার সাথে সব পশ্চিমা দেশগুলো গেমস বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখনো আমার মনে হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আগামী রোববার মাইনৎস শহরে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে শেষ প্রীতি ম্যাচ খেলবে জার্মানি। দলের প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, চোটের কারণে দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার এই সপ্তাহের প্রীতি ম্যাচে মাঠে ফিরতে না পারলেও, বিশ্বকাপের মূল আসরের আগেই তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে যোগ দেবেন।
