ফুটবল দুনিয়ায় ভক্তদের প্রকারভেদ অনেক। কেউ ম্যাচের চুলচেরা কৌশল খোঁজেন, কেউ মজে থাকেন কাটখোট্টা পরিসংখ্যানে, আর একদল আছেন যারা মাঠের চেয়ে বেশি ভরসা রাখেন ‘ইশারা’ বা ভাগ্যের অলৌকিক সংকেতের ওপর! যারা বিশ্বাস আর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাওয়া দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ব্রাজিলের বিখ্যাত জরিপ সংস্থা ‘গাতো মেস্ত্রে’ নিয়ে এসেছে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে ব্রাজিলের কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় যখনই গোল করতে পেরেছেন, তখনই সেলেসাওরা দিন শেষে উঁচিয়ে ধরেছে সোনালী ট্রফি!
হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নেমে চলতি আসরে ঠিক সেই অলৌকিক কীর্তিই করে দেখিয়েছেন ব্রাজিলের নতুন নম্বর সেভেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ ড্রয়ে একমাত্র গোল, দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে এক গোল, আর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে চূর্ণ করার দিনে একাই করলেন জোড়া গোল! ভিনির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই গ্রুপ ‘সি’-র চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম নকআউটে জাপানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির দল। আর ভিনির এই টানা তিন ম্যাচে গোল করার ধামাকা ব্রাজিলের কোটি সমর্থককে এখন ট্রফি জয়ের অকাট্য স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচে গোল করার এই রাজকীয় রেকর্ড এর আগে মাত্র চারজন কিংবদন্তি করে দেখাতে পেরেছিলেন। আর কাকতালীয়ভাবে, সেই প্রতিটা বছরই ব্রাজিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
১৯৭০ (তৃতীয় তারকা): কিংবদন্তি জাইরজিনহো গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়া, ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ১টি করে গোল করেছিলেন।
১৯৯৪ (চতুর্থ তারকা): ‘দ্য ডন’ রোমারিও গ্রুপ পর্বে রাশিয়া, ক্যামেরুন ও সুইডেনের জাল কাঁপিয়েছিলেন ১টি করে গোল দিয়ে।
২০০২ (পঞ্চম তারকা): সেবার একই সাথে এই জাদুকরী কীর্তি গড়েছিলেন দুই মহাতারকা, রোনালদো নাজারিও এবং রিভালদো। তুরস্ক, চীন ও কোস্টা রিকার বিপক্ষে দুজনেই ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

ব্রাজিল যেবার ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সেলেসাওরা কোনো গোলই করতে পারেনি, ফলে এই রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এক কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড (সাবেক ফ্ল্যামেঙ্গো তারকা) দলের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন, তবে সেবার বিশ্বকাপের ফরম্যাট সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। কোনো গ্রুপ পর্ব ছিল না, দলগুলো সরাসরি নকআউট বা শেষ ১৬ থেকে খেলা শুরু করেছিল এবং ব্রাজিল সেবার তৃতীয় হয়েছিল। তাই আধুনিক গ্রুপ পর্বের হিসেবে ভিনিসিয়ুস এখন পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান, যিনি এই এলিট ক্লাবের চেয়ারে বসলেন।
পরিসংখ্যানের এই রহস্যময় সমীকরণ আর ভিনিসিয়ুসের পায়ের জাদু কি তবে এবার হেক্সার খরা কাটাতে চলেছে? অতীত তো বলছে, গ্রুপ পর্বে এক তারকার টানা তিন ম্যাচের গোল মানেই ব্রাজিলের হাতে বিশ্বকাপ! আগামীকাল জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে সেলেসাও ভক্তদের মনে এই অলৌকিক বিশ্বাস যে কতটা টগবগ করছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
তথ্যসূত্র: ও গ্লোবো
