মঙ্গলবার রাতে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। আর এই লজ্জাজনক হারের পর ফরাসি শিবিরে শুরু হয়ে গেছে গৃহযুদ্ধ! টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন চূর্ণ হওয়ার পর, ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন দলের হেড মাস্টার দিদিয়ের দেশমের রণকৌশল ও ট্যাকটিকসকে। ম্যাচে পুরোপুরি নিষ্প্রাণ থাকা এমবাপে টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮ গোল (আর্জেন্টিনার মেসির সাথে) নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে টিকে থাকলেও, দলের এমন হারে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি ও রুইসের জাদুকরী ফুটবল পুরো ম্যাচ জুড়েই ফ্রান্সকে নাচিয়েছে। এই হারের মাধ্যমে স্পেনের কাছে টানা তিন ম্যাচে হারল ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচের কৌশলের দিকে আঙুল তুলে এমবাপে বলেন, মাঝমাঠে আমরা তিনজনের বিরুদ্ধে দু’জন ছিলাম, আর স্পেনের মতো দলের বিরুদ্ধে এভাবে খেলা অসম্ভব! ফ্যাবিয়ান আর রদ্রি বল পায়ে খেলার জন্য অঢেল সময় পেয়েছে। আমাদের হাই-প্রেসিংয়ের ক্ষেত্রে যোগাযোগের তীব্র অভাব ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ম্যান-টু-ম্যান প্রেস করা উচিত ছিল এবং ওদের আমাদের সাথে দৌড়াতে বাধ্য করা উচিত ছিল।

এদিন ম্যাচের কোনো বিভাগেই আলো ছড়াতে পারেনি ফরাসিরা। খেলার প্রথমার্ধে বক্সে লামিনে ইয়ামালকে লুকাস ডিনিয়ে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন, আর সেখান থেকে নিখুঁত শটে গোল করে লা রোজাদের এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এরপর আর ম্যাচেই ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। এমবাপে অকপটে তা স্বীকার করে বলেন, আমরা কারিগরি বা কৌশলগত- কোনো দিক থেকেই মনের মতো খেলতে পারিনি। যখন আপনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যা করণীয় তা করতে পারবেন না, তখন আপনি জিতবেন না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ওদের ওপরে চেপে বসা যাতে ওরা ছন্দ না পায়। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি, উল্টো বল পায়ে আমরা ভীষণ এলোমেলো ছিলাম।

দ্বিতীয় হাফে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে দেশম বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। বিরতির সময়ই আদ্রিয়েন রাবিওকে তুলে নেন এবং পরে দেসিরে দুয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগের তারকা রায়ান চেরকিকে মাঠে নামান। কিন্তু কোনো চালই কাজে আসেনি। ম্যাচ শেষে তরুণ চেরকি বলেন, আমি জানি না কী বলব। ওরা মাঠের সব দিক থেকে আমাদের চেয়ে ভালো ছিল এবং আমার মনে হয় জেতার ক্ষিদেও ওদের বেশি ছিল। এটা দুঃখজনক, কারণ আমি এখনও বিশ্বাস করি দল হিসেবে আমরা ওদের চেয়ে সেরা, কিন্তু আজ স্পেনের দিন ছিল। আমাদের আজ সব কিছুতেই ঘাটতি ছিল।

ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি অধিনায়কের মেজাজ হারানোর দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল দলের ভেতরের হতাশা কতটা চরমে পৌঁছেছে। ৮৬ মিনিটে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন যখন বল তুলতে নিচে ঝুঁকছিলেন, তখন এমবাপে অনর্থক ছুটে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা মারেন। সিমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রেফারি এমবাপেকে হলুদ কার্ড দেখান।
অধিনায়ক হিসেবে হারের সক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে বলেন, অধিনায়ক হিসেবে সব দায় আমার, এবং এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভাঙা ফ্রান্সকে এখন আগামী শনিবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে সান্ত্বনার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামতে হবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বুধবারের আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের পরাজিত দল।
