বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সিংহাসন কাঁপিয়ে দিয়েছেন উত্তর ইউরোপের ছয় পরাশক্তি! ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরডিক অঞ্চলের ছয়টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
একই সঙ্গে ফিফার নীতি-নির্ধারণী কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কারের দাবি তুলে ফুটবল বিশ্বকে তোলপাড় করে দিয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফারো দ্বীপপুঞ্জ। রোববার হেলসিংকিতে এক জরুরি বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে এই ৬ দেশ।
বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা স্টেক প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা ইনফান্তিনো করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে বিশ্ব ফুটবল। চরম বিতর্কের মুখে তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেও ক্ষোভের আগুন থামেনি।

নরডিক দেশগুলো জানিয়ে দিয়েছে, আমরা উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ- এই তিন কনফেডারেশনের অনাস্থা প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানাই। ফুটবলকে আর কখনোই বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হবে না, ফিফাকে তা লিখিতভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। আগামী বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করানোর ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছে ডেনমার্ক।
২০০১৬ সালের ফিফা সংস্কার প্রস্তাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে, ফিফার পুরো গভর্নিং কাঠামোর নিরপেক্ষ ও স্বাধীন অডিট দাবি করেছে ইউরোপীয় এই দেশগুলো। অন্যদিকে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার মতো ঐতিহাসিক চাল চালতে যাচ্ছে বলেও ফুটবল পাড়ায় জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতির পদে থাকার জন্য যখন ইনফান্তিনো দেনদরবার করছেন, ঠিক তখনই চরম এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তিনি। ডোমিনিকান রিপাবলিকে অনূর্ধ্ব-১৪ যুব টুর্নামেন্টে না যাওয়ার জন্য ইনফান্তিনোকে সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি। তাঁর মতে, ইনফান্তিনোর উপস্থিতি টুর্নামেন্টের গুরুত্ব নষ্ট করে দেবে।
তবে সেই বার্তাকে গায়ে না মেখে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে উপস্থিত হয়ে ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, এই যুব টুর্নামেন্টগুলো ফিফার অনুদানেই সম্ভব হচ্ছে, তাই আমার এখানে উপস্থিত থাকা গর্বের। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের প্রধান প্রধান কনফেডারেশনগুলোর এই যৌথ বিদ্রোহে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ যে সুতোয় ঝুলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
