ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান সংস্থা উয়েফার বিরোধ এবার চরম সীমায় পৌঁছেছে! ফিফা প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার ও টিকিটিং স্বত্ব একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২১ শতাংশ শেয়ারে বিক্রির গোপন চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল উয়েফা।
তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো সেই বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হলেও, তাঁর ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এবার উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি নিজে ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি পদের নির্বাচনে দাঁড়াবেন না, তবে ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অন্য কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নিশ্চিতভাবেই মাঠে নামছে!

পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ৫৭ বছর বয়সী সেফেরিন ফিফা সভাপতির পরিকল্পনাকে ২০২১ সালে বাতিল হয়ে যাওয়া প্রস্তাবিত ইউরোপীয় সুপার লিগের চেয়েও নিকৃষ্ট ও ক্ষতিকর হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুপার লিগে ধনী ক্লাবগুলো আলাদা ফুটবল চালাতে চেয়েছিল যা ছিল অন্যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তো পুরো ফুটবল খেলাটাকেই কাঁচা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়ার ফন্দি আঁটা হয়েছিল! যারা সবার পছন্দের এই খেলাকে বিক্রি করতে চায়, তাদের মানসিকতা কল্পনা করাও কঠিন।
ইউরোপীয় ফুটবলকে উপেক্ষা করায় ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, কারো উচিত তাকে মনে করিয়ে দেয়া যে তিনিও একজন ইউরোপীয় এবং ইউরোপীয় ফুটবলের সমর্থনেই তিনি আজ এই জায়গায় এসেছেন।

কেবল শেয়ার বিক্রির চক্রান্তই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনের সাম্প্রতিক ফুটবল বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর অতি-ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সেফেরিন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে রহস্যের জট খোলেন তিনি। ট্রাম্প নিজেই ইনফান্তিনোকে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা তোলার অনুরোধ করার কথা স্বীকার করেছিলেন!
এই ঘটনাকে ফিফার নিজস্ব নিয়ম ভাঙার নির্লজ্জ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে সেফেরিন বলেন, "একজন দেশের প্রধান ফোন করে বললেন আর ফিফা সভাপতি তাকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে দিলেন—ফুটবল অনুরাগী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এটি চরম ধাক্কাদায়ক ঘটনা। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়মকে যদি সম্মান না করি, তবে খেলার আর কোনো মানেই থাকে না।"

উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের মতো বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় স্তম্ভগুলো ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। যুক্তরাজ্যের হোম নেশনসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
যদিও দক্ষিণ আমেরিকার 'কনমেবল' ও আফ্রিকান ফুটবল গভর্নিং বডি 'ক্যাফ' এখনও তাঁর পাশে রয়েছে, তবে রাজনীতি ও ফুটবল বিশ্বের সমর্থন যে হাতছাড়া হয়ে গেছে তা ইনফান্তিনো নিজেও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।
নিজে নির্বাচনে না লড়ার কারণ হিসেবে সেফেরিন জানান, উয়েফায় কাজ করতে এবং নিজের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে চান তিনি। তবে আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থে ইনফান্তিনোর রাজত্ব শেষ করতে এক নতুন চ্যালেঞ্জারের আবির্ভাব এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা!
তথ্যসূত্র: বিবিসি-আল জাজিরা-রয়টার্স
