বোতাম চাপলেই রং বদলে যাবে গাড়ির। বহুরূপী এই গাড়ি উদ্ভাবন করেছে বিশ্বখ্যাত জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির নিরন্তর চেষ্টার ফসল এই গাড়ি। আপাতত সাদা, কালো এবং ধূসর এই তিন রঙেই বদলানো যাবে গাড়িটিকে।
গাড়ি কিনতে গিয়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই রং নির্বাচনে দ্বিধায় পড়েন। সাদা না কালো, হালকা নাকি গাড়? কোন রঙের গাড়ি কিনবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই।
রং নিয়ে ক্রেতার দ্বিধা দূর করতে বহুরূপী এক গাড়ি বাজারে আনছে বিএমডব্লিউ। এটি মুহূর্তে গিরগিটির মতোই রঙ বদলাতে সক্ষম হবে।
এই গাড়িটির নির্দিষ্ট একটি বাটনে চাপ দিলেই বদলে যাবে রঙ। যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শোতে অভিনব এই গাড়ি প্রকাশ্যে এনেছে বিএমডব্লিউ।
মোবাইল ফোনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠালেও গাড়ির পৃষ্ঠে বিভিন্ন রঙ ফুটে উঠবে। ফলে গাড়িটির গায়ে যে রঙ আছে সেটি বদলে যাবে।
বিএমডব্লিউ আইএক্স ফ্লো নামের এই গাড়ি সাধারণত ই-রিডারগুলোতে পাওয়া ইলেকট্রনিক কালি প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ির বাইরের অংশে ধূসর ও সাদা রঙ নিয়ে আসতে পারে।
এমডব্লিউ বলছে, এই গাড়িটির শরীরকে প্রাণবন্ত করে তোলা হয়েছে অল-ইলেকট্রিক ‘আইএক্স এসইউভি’ মডেলের জন্য বিশেষভাবে উন্নত বডি র্যাপ দিয়ে।
গাড়ির বাইরের শরীরে প্রচলিত রঙের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে লাখ লাখ মাইক্রো ক্যাপসুল। মানুষের চুলের চেয়েও আকারে ছোট ক্যাপসুলগুলোতে রয়েছে ইলেকট্রনিক ইঙ্ক সুবিধা।
এতে অ্যামাজনের কিন্ডল ই-রিডারের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। একটি বোতামের স্পর্শে, একজন চালক গাড়ির বাইরের শেড পরিবর্তন করতে পারবেন।
রঙ কালো এবং সাদা এমনকি হালকা এবং গাঢ় স্ট্রাইপের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে মোড়কের শেলে ইলেকট্রনিক কালি সক্রিয় করে।
ই-ইঙ্ক প্রযুক্তিতে রঙ পরিবর্তনকে অনেক সাশ্রয়ী বলছেন বিএমডব্লিউয়ের গবেষণা প্রকৌশলী স্টেলা ক্লার্ক। তিনি বলেন, কালোর চেয়ে অনেক বেশি সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় সাদা পৃষ্ঠে।
ঠিক একইভাবে সাদা গাড়ির চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি গরম হয় কালো গাড়ি। এর ফলে, গরম কালে সাদা রঙের গাড়ির এসি বন্ধ রেখে বা কমিয়ে বিদ্যুৎ অনেকখানিই সাশ্রয় করা যাবে।
স্টেলা ক্লার্ক আরো বলেন, ‘ই-ইঙ্ক টেকনোলজি ব্যবহার করে রঙের পরিবর্তন করা যাবে। আমরা এমন উপাদান নিয়েছি যেটি একটি মোটা কাগজের মতো এবং আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল এটি আমাদের গাড়ির মতো একটি থ্রিডি বস্তুর উপর বসানো’।
গিরগিটির মত রং পরিবর্তনকারী এই গাড়ির ভেতরের নকশায়ও আনা হয়েছে নতুনত্ব। সিটের পেছনে আকারে বড় স্ক্রিন থাকায় সিনেমা হলের আদলে ভিডিও দেখার সুযোগও মিলবে।
গাড়িটি কিনতে গুনতে হবে ৮৪ হাজার ডলার। তবে শিগগিরই বাজারে আসছে না এটি। ডেমো গাড়িটির গবেষণা ও নকশা উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হতে এখনো বেশ সময় লাগবে।
একাত্তর/ এনএ
