ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের কিংবদন্তি ফুটবলার কেভিন কিগান আর নেই। ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। সোমবার এক পারিবারিক বার্তার মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর এএফপি’র।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁর শরীরে চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে শেষ দিনগুলোতে তিনি নিজের স্ত্রী ও কন্যাদের সান্নিধ্যে ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুঃখের সাথে আমরা জানাচ্ছি যে ৭৫ বছর বয়সে কেভিন কিগান মৃত্যুবরণ করেছেন। দুইবারের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী কেভিন একজন অত্যন্ত স্নেহশীল স্বামী, বাবা ও দাদা ছিলেন। কঠিন এই মুহূর্তে আমরা সবার কাছে একান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিজের সময়ে গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন কিগান। ছোটখাটো কিন্তু দারুণ ক্ষিপ্রতার কারণে তাঁকে ‘মাইটি মাউস’ ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল। লিভারপুলের হয়ে তিনি চারটি প্রথম সারির লিগ শিরোপাসহ ইউরোপিয়ান কাপ ও এফএ কাপ জিতেন।

অলরেডদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর ১৯৭৭ সালে তিনি জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দেন। হামবুর্গের হয়ে অসামান্য পারফর্ম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ ও ৭৯ সালে পরপর দুইবার বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মাননা ‘ব্যালন ডি'অর’ অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে ফিরে সাউদাম্পটন ও নিউক্যাসলে খেলে নিজের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও সফল ছিলেন কিগান। ১৯৯৩ সালে তাঁর অধীনেই নিউক্যাসেল প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হয়। আক্রমণের পর আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে তাঁর নিউক্যাসেল দল ফুটবল বিশ্বে ‘দ্য এন্টারটেইনার্স’ উপাধি পায়। ১৯৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঠিক পেছনে থেকে রানার্স-আপ হয়েছিল তাঁর দল।

এরপর ফুলহ্যামকে কোচিং করানোর পর ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে চার বছর ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০০৮ সালে নিউক্যাসেলে স্বল্পমেয়াদী কোচিংয়ের মাধ্যমে নিজের বর্ণাঢ্য ডাগআউট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানেন।
মাঠের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ডাগআউটের কাণ্ডারি, ফুটবলের প্রতিটা অধ্যায়ে নিজের গভীর ছাপ রেখে যাওয়া এই স্পোর্টস আইকনের বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্রীড়া বিশ্বে।
