দেশে নতুন ভাইরাসের নাম ‘অনলাইন জুয়া’

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম

ধরুন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আপনি পরিবার নিয়ে বসেছেন টিভি সেটের সামনে। অনেক প্রতীক্ষিত ম্যাচটি শুরু হলো। প্রতিটি ওভার শেষে নিয়মিত বিজ্ঞাপন বিরতি আসছে। হঠাৎ সেখানে ভেসে উঠলো অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন। যে বিজ্ঞাপনে আপনাকে মুঠোফোনের অ্যাপে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আপনি বিস্মিত হলেন, দেশে গণমাধ্যমে এটা কিভাবে প্রচার হচ্ছে? শুধু তাইনা, বিজ্ঞাপনে যারা নেচে নেচে জুয়া খেলার আমন্ত্রন জানাচ্ছে তারাও কিন্তু যথেষ্ট পরিচিতমুখ।

এর বাইরে নিশ্চয় দেখেছেন ইদানিং ১০ মিনিট ফেসবুক স্ক্রল করলে কমপক্ষে দু’বার আপনার সামনে জুয়ার বিজ্ঞাপন ভেসে উঠবে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন সরকার আসলে কি করছে? এভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন কি চলতে থাকবে? দর্শক আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরাও মাঠে নেমেছিলাম।

জানার চেষ্টা করেছি কোথা থেকে কারা এই জুয়ার বিজ্ঞাপনগুলো পরিচালনা করছে? কিভাবে এটি ছড়াচ্ছে? চাইলেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা? কি ধরনের শাস্তি এখানে আছে? আর এই সবগুলোর উত্তর জানতে শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন।

মুল আলাপে যাবার আগে একটা জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ে কিছু তথ্য না বললেই নয়। একটি বিজ্ঞাপনে দেয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম সবাইকে সাকিব আল হাসানের জুয়ার অ্যাপে যুক্ত হতে বলছেন। মুশফিকের ভয়েজটা যেহেতু আমাদের সবার পরিচিত, তাই বিজ্ঞাপনে দেয়া ভয়েজটাও পরিচিত লাগছে। এবার যদি একটু খেয়াল করা যায়ম তাহলে বোঝা যাবে যে মুশফিকুর রহিমকে দেখা যাচ্ছে তার চোখের পলক পড়ছে না। ভ্রু নড়ছে না এবং তিনি বক্তব্যের মধ্যে কোনো দম নিচ্ছেন না।

 

আর এটি তখনই হয় যখন এআই দিয়ে কোনো ভিডিও বানানো হয়। তারমানে এআই দিয়ে ভার্চুয়াল মুশফিক তৈরি করে বিজ্ঞাপনটি বানানো হয়েছে। আবার আরেকটি বিজ্ঞাপন তৈরি হয়েছে সাকিব আল হাসানের একটি এআই ভার্সন তৈরি করে। এক সাকিবের ছবি-ভিডিও আর এআই দিয়ে কৌশলে শতাধিক জুয়ার বিজ্ঞাপন এখন ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। যেহেতু নানা সময় সাকিব আল হাসানের সাথে জুয়াড়িদের নাম জড়িয়ে ছিলো, তাই মানুষ এসব কারসাজিকে সত্যি মনে করছে এবং ধরেই নিচ্ছে এটি সত্যি।

শুধু খেলোয়াড় নয়, বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপকের ভিডিওর সাথে বানোয়াট কন্ঠজুড়ে দিয়েই বানানো হচ্ছে জুয়ার বিজ্ঞাপন। যেহেতু বাংলাদেশে ৫ কোটি ৫৬ লাখের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী আছে এবং তাদের বেশিরভাগের কাছেই পৌঁছে যাচ্ছে এসব বিজ্ঞাপন। শুধু ফেসবুক নয়, ইউটিউব-ইনস্টাগ্রাম প্রায় সব সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেটা ছড়াচ্ছে।

কারা কিভাবে এটা ছড়াচ্ছে? এর উত্তর খুঁজতে কথা হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম- সিটিটিসি’র প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সাথে। আমরা জানতে পারি, প্রায় প্রতিটি জুয়ার সাইট দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ বলছে, কোন কোন দেশ থেকে এটি পরিচালিত হয় সেটি খুঁজতে খুঁজতে সব শেষে গিয়ে দুবাইয়ের নাম আসে।

এসব জুয়ার প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশে। এজেন্টদের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম চলছে। পুলিশ তাদের নিয়মিত অভিযানে তাদের আটক করলেও মূল চ্যালেঞ্জটা হয় দেশের বাইরে থাকাদের আটকের ক্ষেত্রে। কারণ, বাংলাদেশের দিক থেকে এই অপরাধীদের ব্যপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে চিঠি দেয়া হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার কোনো উত্তর মেলেনা। ফলাফল, এরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বভাবতই  বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থও দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সরকার তাহলে করছেটা কী। এই প্রশ্ন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককের কাছে। তিনিও এই নিয়ে সমানভাবে উদ্বিগ্ন। পলক জানান, দেশের ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা যুক্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক বয়স্ক, রিটায়ার্ড ব্যক্তিরাও এর মধ্যে আসছেন। গেলো সোমবার সচিবালয়ে তিনি জানান, মোট দুই হাজার ৬০০টি জুয়ার সাইট ব্লক করা হয়েছে, সমান্তরালে বন্ধ করা হচ্ছে জুয়ার অ্যাপগুলো। এই অভিযান চলমান থাকবে।

কিন্তু ধড়পাকড় করে কি সমাধান সম্ভব? প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল দুনিয়ার অপরাধগুলো দমন করতে হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ধড়পাকড় করে আসলে এগুলো থামানো যাবে না। এগুলো বন্ধের জন্য জোরদার করা দরকার ভার্চুয়াল নজরদারি। একই সঙ্গে এই অনলাইন জুয়ায় যে মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, সেই তথ্যগুলো তুলে ধরে সচেতনতা বাড়ানো। তবে দিনশেষে যারা বড় পরিসরে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন তৈরি করছেন বা তাতে মডেল হচ্ছেন, তাদেরকে নৈতিকভাবে সেখান থেকে সরে আসার আহবানও জানান তারা।

 

এআর
বাংলাদেশ থেকে এখন সরাসরি কোনো বিজ্ঞাপন দেয়া যাচ্ছে না ফেসবুকে। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো বলছে, ডলার সঙ্কটসহ নানান কারণে ফেসবুক পাওনা বুঝে পায়নি। ফলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর