নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বিজিবির ল্যান্স নায়েক রুবেল হোসেন মন্ডল (৩৫) নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকাবরি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়।
গাড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার প্রার্থী ও বর্তমান চেয়াম্যান মারুফ হোসেন অন্তিককে প্রধান আসামী করে আরো ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে অনেককে।
গত রবিবারের (২৮ নভেম্বর) ওই ঘটনায় সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া আট জনকে মামলাটির আসামি হিসেবে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, গত রোববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই ইউপি নির্বাচনে পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষণা শেষে ব্যালটসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসার সময় পরাজিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে মামলার আরজিতে উল্লিখিত আসামিরা আরো লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
এতে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন মণ্ডল মুখে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। ওই ঘটনায় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ একাধিক পুলিশ ও বিজিবি কর্মকর্তা এবং সদস্য আহত হন।
আত্মরক্ষা এবং সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ১৬৪ রাউন্ড গুলি ও ৮ রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করেন।
ওই সহিংসতার ঘটনায় একজন বিজিবি সদস্যের প্রাণহানীসহ নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত মোটরযান, একটি মোরসাইকল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির দরজা-জানালার ব্যাপক ভাঙচুর হয়। এসময় নির্বাচনে দায়িত্বরদের সন্মানী ভাতা বাবদ গচ্ছিত ৫৬ হাজার ৬৫০ টাকা চুরি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: হেরাইন বিক্রির দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘এঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে ওই মামলার আসামি হিসেবে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।’
এদিকে ঘটনাটি তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির তদন্ত কাজ চলমান আছে। কাজের অংশে মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী সার্কিট হাউজে নির্বাচনী কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।
ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, রংপুর বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ল্যাফটেনেন্ট কর্ণেল মো.মাহবুবুর রহমান খান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ওয়ালিদ হোসেন ও নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।
এদিকে সহিংসতার ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে আসেননি কিংবা কোনো তথ্য বা অনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়ে সহযোগিতাও করেনি।
এদিকের ঘটনার পরের দিন ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্তের দোহাই দিয়ে ওই কমিটির প্রধানসহ কোনো সদস্যই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
একাত্তর/টিএ
