বছরের প্রথম দিন সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনার কারণে গতবারের মতো এবারও উৎসব ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বই। আর বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এমন আনন্দে অভিভাবকরাও দারুণ খুশি।
নতুন বই হাতে পেয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, নতুন বছরের প্রথম দিনে বই পেয়ে খুবই আনন্দ অনুভব করছি। এবারও বই উৎসব হলো না, তাকে কী! বই হাতে পেয়েছি, এর চেয়ে বড়ো আনন্দের আর কিছু নেই। আর নতুন বই দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও শুভ ইংরেজি নববর্ষ।

একই প্রতিক্রিয়া জানায় জামালপুর, রংপুর, সিলেটসহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা।
রংপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রংপুর বিভাগের আট জেলার ৫৮টি উপজেলায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে অধীনে সাড়ে সাত হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে একযোগে প্রায় ৫২ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়।
সকাল ১০টা থেকে রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন্স স্কুল ও দি মিলেনিয়ামসহ সকল প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বুথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বই বিতরণ হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত।
এবারের শিক্ষাবর্ষে চার কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তক ও ৫টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে। তবে, এ বছরের প্রথমদিনে সব শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা ।
আরও পড়ুন: শেষ বিকেলে বাংলাদেশের স্বস্তি
২০১২ সাল থেকে বর্তমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সারাদেশে একযোগে বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারির উপস্থিতিতে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বই বিতরণ উদযাপিত হয়ে আসছে।
একাত্তর/এসি
