প্রচারের শেষ মুহূর্তেও সংঘর্ষ, গোলাগুলি, হত্যা ও ভোটারদের ভয় দেখানো বন্ধ হয়নি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে। প্রার্থীদের একে অপরের নামে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আছেই।
বেশিরভাগ এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন, গোলযোগপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া না হলে, কোন সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) সকালে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নে ভোটের প্রচারের সময় দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হাই ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা কামালের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আনারস সমর্থক এক প্রার্থীকে আটকের খবরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এক সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ থেকে তৈমুরকে অব্যাহতি
ভাঙচুর করা হয় একটি মোটরসাইকেল। দু’পক্ষেই নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নিলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। হামলার জন্য উভয় গ্রুপ একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
এদিকে, ঝিনাইদহের সারুটিয়া ইউনিয়নে এ পর্যন্ত নির্বাচনী সংঘর্ষে মারা গেছেন দু'জন। যাদের দু'জনই নৌকা মার্কার সমর্থক। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন কর্মী।
ভোটাররা জানান, ২০টি ইউনিয়নের ১৭টিতেই আওয়ামী লীগের ৫১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। মূলত এ কারণেই সহিংসতা বাড়ছে।
অবশ্য নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন তার সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে। যে কোন ধরনের সহিংসতা এড়াতে প্রস্তুত আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুরের শ্রীপুরের আট ইউনিয়নের চারটিতেই রয়েছে উত্তেজনা। সহিংসতার আশঙ্কা জানিয়ে প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি অভিযোগ করছেন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার।
পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথা বলছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ৭০৭ টি ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ।
