নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির পঞ্চম দিনের শেষে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এনিয়ে একদিনেই মোট পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ জানুয়ারি) সকালে ভাসমান অবস্থায় নদীর তিন কিলোমিটার এলাকায় মৃতদেহগুলো ভাসতে দেখা যায়। পরে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ডুবুরি দল।
ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূর থেকে দুটি এবং বক্তাবলী এলাকা থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় আরও পাঁচ জন নিখোঁজ আছেন।
অভিযানের শুরুতে ধর্মগঞ্জ এলাকা থেকে পাওয়া যায় নিখোঁজ মা জেসমিন আক্তার ও মেয়ে তাসনিমের মৃতদেহ। এরপর আলাদা আলাদা ভাবে মেলে তিনটি আরও তিনটি মৃতদেহ। পাঁচদিন পর মৃতদেহ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, ধীরগতি আর অসহযোগিতার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনায় লঞ্চের মাস্টারসহ তিনজনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
তবে কোষ্টগার্ডের কর্মকর্তা স্টেশন মাষ্টার লেফটেন্যান্ট আশমাদুল জানান, নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
আরও পড়ুন: ধলেশ্বরীতে ট্রলারডুবি: পাঁচদিন পর ভেসে উঠলো চার লাশ
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, অন্য নিখোঁজদের খোঁজে আমাদের ফায়ার সার্ভিস সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌপুলিশও চেষ্টা চালাচ্ছে। যতক্ষণ ট্রলার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া না যাবে ততক্ষণ আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি ধলেশ্বরী নদীতে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডুবে যায় ট্রলারটি।
ট্রলারডুবির ঘটনায় ওই রাতেই নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদি হয়ে লঞ্চ এমভি ফারহান-৬ এর মাস্টার, চালক ও সুকানিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।
পরে এম ভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাদের জেল হাজতে পাঠায় আদালত।
এ দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
একাত্তর/টিএ
