করোনা টিকার বুস্টার ডোজ নিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বুধবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজারের টিকা দেয়া হয় তাকে।
এ সময় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে পূর্ণ সুস্থতার জন্য বিদেশে চিকিৎসার বিকল্প নেই।
গেলো বছরের ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজের টিকা নেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। আর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নেন ১৮ আগস্ট। দুই দফায় তাঁকে দেয়া হয় মর্ডানার টিকা।
তার আগে গেলো ১১ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পরে নানা জটিলতা নিয়ে তিনি ভর্তি হন এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখানে লিভার ও কিডনিসহ বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই দফায় চিকিৎসা নেন বিএনপি নেত্রী। সবশেষ ৮১ দিনের চিকিৎসা শেষে গেল ১ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।
মঙ্গলবার করোনার তৃতীয় ডোজ নেয়ার ক্ষুদে বার্তা পেয়ে বুধবার বিকেলে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
গুলশানের বাসা থেকে তাঁর হাসপাতালে যাবার সুবিধায় এ সময় সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গুলশানের বাসার সামনে নেতাকর্মীদের তেমন জমায়েত তেমন না থাকলেও হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন অসংখ্য নেতাকর্মী।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে পৌঁছায়। গাড়িতে রেখেই তাকে টিকা দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: একদিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় চারগুণ
এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান তাঁর অবস্থা এখন কিছুটা স্থিতিশীল।
তবে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আওয়ামী লীগের নেতারা বিদেশে চিকিৎসা নিলেও, আইনি মারপ্যাঁচের অজুহাতে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
খালেদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডও সরকারের কাছে তাঁর বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে আসছে।
জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে এলে চেকআপের জন্য তাকে আবারও হাসপাতালে নেয়া হতে পারে। আপাতত বাসায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন।
বাসায় যে কক্ষে খালেদা জিয়া বিশ্রামে আছেন, সেখানে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাচ্ছেন না। বোন সেলিনা ইসলাম মাঝে মাঝে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাচ্ছেন।
একাত্তর/এসজে
