বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।
মহামারীর দুই বছর পেরিয়ে উন্নয়নের হারানো গতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় নতুন অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ঘাটতি রেখে যে বাজেট অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাব করেছেন, তার ১৫.৭ শতাংশ তাকে যোগাড় করতে হবে ব্যাংক থেকে ঋণ করে। এ বাজেট কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মুখপাত্ররা জানিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া- এক নজরে দেখে আসা যাক, দেশের রাজনীতিবিদরা এই বাটেজ নিয়ে কে কি বলছেন,
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মতে, করোনা মহামারী থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যই এই বাজেট। নিম্নবিত্ত ও গরিবের কথা চিন্তা করেই এ বাজেট দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সামাজিক উন্নয়ন খাতে এবারের বাজেট বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছে।
এদিকে দেশের আরেক প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমাগীর বলছেন, জনগনের জন্য এই বাজেট নয়। কতটুকু লুটপাট করা যায় তার জন্য ৬ লাখ কোটির বেশি বাজেট দিয়েছে সরকার।
এটা জনবান্ধব বাজেট হয়নি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের উপর কর বাড়িয়ে উচ্চবিত্তদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটা করোনা পরবর্তী মোটেও চ্যালেঞ্জ বাজেট হয়নি। বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানার মতে গতানুগতিক স্বজনতোষি হয়েছে এই বাজেট, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের সংকট বাড়বে।
রুমিন ফারহানার সাথে সুর মিলিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেছেন, এই বাজেট মানুষকে সব দিক থেকে আরো চাপে ফেলবে। যেমন কর বাড়বে নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে, গ্যাস পানি বিদ্যুতের দাম বাড়বে। একই সাথে তিনি বলেন, দুর্নীতিকে বৈধ করছে সরকার। বিদেশে নিজেদের পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত আনার বৈধ পথ তৈরি করতেই পাচার করা টাকা আনার সুযোগ দিচ্ছে আওয়ামীলীগ।
অপরদিকে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের মুখপাত্র হাসান মাহমুদ দাবি করেছেন, বাজেট নিয়ে সব সময় কিছু মানুষ সমালোচনা করে। বাস্তবতা হচ্ছে এটা গরিব বান্ধব বাজেট। বহির্বিশ্বের যুদ্ধে পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে এ বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আওয়ামীলীগ সরকারের জোটবন্ধু ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলছেন, এটা জনবান্ধব বাজেট হয়নি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের উপর কর বাড়িয়ে উচ্চবিত্তদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এটা করোনা পরবর্তী মোটেও চ্যালেঞ্জ বাজেট হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকারের আরেক জোটসঙ্গি জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মতে সিনডিকেট নিয়নত্রণ করা গেলে এই বাজেট বাস্তবায়ন যোগ্য।
একাত্তর/এসএ
