আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা। এরপর বুধবার সকাল থেকেই শুরু কুমিল্লা
সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন। তাই গোটা শহরে টানটান উত্তেজনা। প্রচারের শেষ দিন
পার করছে ঢাকার কাছের এই জেলা শহরটি। মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে সব ধরনের ভোটের প্রচার।
তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু এ সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে ভোট কিনতে টাকা ছিটানোর অভিযোগ। মরিয়া প্রার্থীরা আচরণবিধিও লঙ্ঘন করছেন।
মেয়র প্রার্থীরাও একে অপরের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করছেন। কুসিকের দুইবারের মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। আবার সাক্কুর অভিযোগ এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।
সোমবার কুমিল্লা নগরীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত অভিযোগ করেন, ভোটের মাঠে সমানে কালো টাকা ছড়াচ্ছেন সাক্কু। তার দাবি, মেয়র থাকার সময় দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ আয়ের টাকাই এখন ছড়ানোর হচ্ছে ভোটারদের মাঝে।
নৌকা প্রার্থীর এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাক্কু বলেন, প্রমান না থাকায় কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, রিফাত নয়, তার প্রতিপক্ষ সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহার।
সাক্কু বলেন, যাঁরা অভিযোগ করছেন তাঁরাই বরং কালো টাকার ব্যবহার করছেন। মানুষ আমাকে এমনিতেই ভালোবাসেন, আমাকে তাঁদের টাকা দিতে হয় না। আমার প্রতিপক্ষ টাকা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, এমন খবর আমার কাছে আছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী নিয়ম না মেনে বাহার এলাকায় থাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনও এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সেই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠ হলে, তিনিই জিতবেন বলেও আশাবাদ জানান সাক্কু।
অন্যদিকে, নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের নির্বাচনী কার্যালয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমার কোনো কালো টাকা নেই। তাই ব্যবহার করার প্রশ্ন আসে না। প্রতিপক্ষ দুই প্রার্থীর কালো টাকা আছে, তাঁরা টাকা বিলি করছেন, এমন খবর মাঠ থেকে বিভিন্নভাবে আসছে।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের এমন অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যে দিয়ে চলছে শেষ দিনের প্রচার। মধ্যরাতেই যা শেষ হবে। এরপরই শুরু হবে ভোটের প্রস্তুতি। আর বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেবেন শহরবাসী।
একাত্তর/এসএ
