প্রতিবেশী ভারতের চেয়েও বাংলাদেশে আবারও দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। গেল সাত দিনে এদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ। সেখানে ভারতে বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার ডট কমের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
এই ওয়েবসাইটের হিসাব বলছে, এই সপ্তাহের (সোম থেকে রোববার) আগের সাত দিনে বাংলাদেশে মোট করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ছিলো ৩৮৩ জন।
সেখানে এই সপ্তাহের সাত দিনেই এক হাজার ৭২৫ জনের শরীরের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শতকরা হিসাবে যা ৩৫০ ভাগ বেশি। তবে এই সময় কোন মৃত্যু নেই।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার দিক থেকে বাংলাদেশ আছে চতুর্থ স্থানে। অন্যদিকে ভারত আছে ১৩তম স্থানে। বাংলাদেশের চেয়ে সংক্রমণে গতি মঙ্গোলিয়া ও ফিলিস্তিনে বেশি।
এশিয়ার যেসব দেশে সংক্রমণ বেশি বাড়ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, আফগানিস্তান, লেবানন, ইরাক, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, ফিলিপিন্স ও ভারত।
এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও নেপালেও আবারো বাড়তে শুরু করেছে করোনা। তবে গোটা বিশ্বে গেলো সাত দিনে করোনার সংক্রমণ সাত শতাংশ কমেছে।
একই সময়ে এশিয়াতে ভাইরাসটির সংক্রমণ কমেছে ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপে বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বাকি মহাদেশগুলোতেও সংক্রমণের হার কমছে।
বাংলাদেশে গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার পাঁচের উপরে রয়েছে। অথচ ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে এই হার কমতে শুরু করেছিলো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে রোগী শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহের বেশি পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে করোনার সংক্রমণের চিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা করতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী আবারও চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, বাড়ছে সংক্রমণ
করোনা পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে নতুন ধরন অমিক্রনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমেছে। দেশে সংক্রমণ কমে আসায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে।
তুলে নেয়া হয়েছে করোনাকালীন বিধিনিষেধ। গত ২৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০-এর নিচেই ছিলো।
