বিশ্বব্যাপী আবারো বেড়ে চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল এবং ইসরাইলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
নতুন করে সংক্রমণের জন্য ওমিক্রনের বি.এ-ফোর এবং বি.এ-ফাইভ ভ্যারিয়েন্টকে দায়ী করা হচ্ছে। ওমিক্রনের এই দুই উপজাতই মানব শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ- সিডিসি জানাচ্ছে, আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়েছে বা টিকা নিয়েছে, সবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই ফাঁকি দিতে পারে ভ্যারিয়েন্ট দুটি।
যুক্তরাজ্যে আবারো বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত সপ্তাহ থেকে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। শিশু থেকে বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছে সবাই।
পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, ওমিক্রনের বিএফোর ও বিএফাইভ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে আক্রান্ত বাড়ছে। ওমিক্রনের মূল ভ্যারিয়েন্ট বিএওয়ান।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্রিটেনে তাণ্ডব চালায়। নতুন ভ্যারিয়েন্ট দুটিকে সম্প্রতি উদ্বেগজনক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশ্বের টিকা নেয়া শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি পর্তুগাল। টিকা নিয়েছে ৯৬ শতাংশ বাসিন্দা। তারপরও আশ্চর্যজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
গত বছর এমনকি ২০২০ সালের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্তের হার বেশি। আক্রান্তের ৩৭ শতাংশ বিএফাইভ ভ্যারিয়েন্টে।
ইসরাইলে করোনায় আক্রান্ত ১৪০ জনে অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৭০। বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আক্রান্ত বাড়তে থাকলে করোনা ওয়ার্ড আবারো চালু করতে হবে বোলে জানান তারা। সংক্রমণ বাড়ার জন্য বিএফাইভ ভ্যারিয়েন্টকে দায়ী করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আসাম ও মেঘালয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত ২১ শতাংশ রোগী বিএফোর ও বিএফাইভের সংক্রমণে। সিডিসি জানায়, এ দুটি ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের মূল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি সংক্রামক।
যারা আগে আক্রান্ত হয়েছে বা টিকা নিয়েছে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঁকি দিতে সক্ষম। ভ্যারিয়েন্ট দুটির তীব্রতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যউপাত্ত নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওমিক্রনের মূল ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় নতুন দুটি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর হার কিছুটা কম।
