সারাদেশে তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু
ও বয়স্করা। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা।
গরমের তীব্রতায় সবারই হাঁসফাঁস অবস্থা। সূর্যের খরতাপে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রোদের খরতাপে অসহনীয় অবস্থায় পড়ছেন তারা।
এ অবস্থায় বেশি বেশি পানীয় পানের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে, দু’তিনদিনের মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে কিছুটা কমবে তাপমাত্রা।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি নীলফামারীর সৈয়দপুরেও ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আর শনিবার উত্তরের জেলা নীলফামারীতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার ছিলো ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
গাছের ছায়ায় বা পুকুরে নেমে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টায় অনেকে। আবার রোদের তেজে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই।
পঞ্চগড়ে গত দুই দিন থেকে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস বলছে, দুই তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর বৃষ্টি হলেই কমবে তাপমাত্রা।
প্রচণ্ড গরম, তীব্র রোদ। এর সঙ্গে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে রংপুরে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অনেকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে লেবু ও ফলের শরবত খেয়ে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিস বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে শুক্রবার জেলায় সর্বোচ্চ ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ ধরনের গরম আরো দুই-তিন দিন থাকবে।
ভাপসা গরমে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে খুব কম। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে জনসমাগম খুবই কম। দিনমজুর ও শ্রমিকরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ ছাড়া ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ। আর দিনাজপুরেও বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় কৃষকদের আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে।
এরইমধ্যে চাঁদপুরের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে জ্বর-সর্দি ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এদের মধ্যে শিশুর ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
গরমে সুস্থ্য থাকতে কম মসলাযুক্ত খাবারের পাশাপাশি বেশি বেশি পানি খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
একাত্তর/আরবিএস
