চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নিজের দুই সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার দুই বছর পর তাদেরকে উদ্ধার করে বাবামায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ইভা (৫) ও রিয়া (১৮ মাস) নামে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তারা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৭ নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের এমরান হোসেন ও জান্নাত বেগম দম্পতির সন্তান।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বুধবার (২০ জুলাই) বেলা তিনটায় মা জান্নাত বেগম ও বাবা এমরান হোসেনের হাতে শিশু দু'টিকে তুলে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমরান হোসেনের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী জান্নাতকে নিয়ে তিনি নাটেহরা গ্রামে বসবাস করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন চট্টগ্রামে।
প্রায় দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রীর ঘরের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ইভাকে (৫) ৪০ হাজার টাকায় জেলার ফরিদগঞ্জে আর ছোট মেয়ে রিয়াকে (১৮ মাস) চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪০ হাজার টাকায় মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার বিক্রি করে দেন এমরান হোসেন।
এমরান হোসেন জানান, মেয়েরা তার ছোট স্ত্রীর কাছে ভালো থাকবে, বড় বউকে এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি তার দুই মেয়েকে গোপনে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
এদিকে সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে পুলিশ মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তার দুই সন্তান ইভা ও রিয়াকে উদ্ধার করে।
বুধবার (২০ জুলাই) শিশুদের লালন-পালনকারী দুই মাকেও থানা কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এসময় তারা জানান, তারা লিখিতভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই শিশুদের বাবার কাছ থেকে দত্তক নিয়ে গত দুই বছর ধরে লালন-পালন করে আসছেন।
তারা জানান, তাদেরকে বলা হয়েছিলো ওই শিশুদের মা মারা গেছেন। তাই তারাও প্রয়োজনে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে দত্তক নেন।
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনার পর আহত বান্ধবীদের ফেলেই পালান তিন মদ্যপ বন্ধু
শিশুদের বাবা এমরান হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, 'ওই সময়ে টাকার বিনিময়ে মেয়েদের দত্তক দিয়েছি। আর এই ভুল হবে না। এখন আমি আমার মেয়েদের লালন পালন করবো।'
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, তারা যে প্রক্রিয়ায় শিশুদের দত্তক নিয়েছেন, তা বিধিসম্মত নয়। তাই শিশুদেরকে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
