বরগুনা শহরের ৩২ একর জমি খাস খতিয়ানে নিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানসহ ইউএনও এবং এসিল্যান্ডে বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে সোকাসসহ মূল নথি তলব করেছেন আদালত।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) মামলাটি করছেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম।
মামলার অন্য বিবাদিরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওসার উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজাম উদ্দিন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরগুনা শহরের এসএ অথবা আরএস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত ৩২ একর জমি খাস খতিয়ানে নিয়ে একশনা বন্দোবস্ত দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এজন্য তারা আদালত এবং ভূমি অফিসে বেশ কয়েকটি মামলা দিয়েছের স্থানীয় জমির মালিকদের বিরুদ্ধে, যারা ৭০ থেকে ১০০ বছর ধরে জমিতে বসবাস করছেন। তাদের রেকর্ড বাতিল করে শহরের ওই জমি খাস খতিয়ান করার জন্য ভূমি অফিসে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর শহরের জমির মালিক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, এটা প্রশাসনের এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। এভাবে ডিসি কর্তৃক ব্যবসায়ীদের মামলা দিয়ে হয়রানির কারণে ইতিমধ্যে একজন ব্যবসায়ীর মা স্ট্রোক করেছেন। তিনি এখন মৃত্যু পথযাত্রী।

তার অভিযোগ, বরগুনার জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সুকৌশলে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বরগুনা জেলা শহরের সকল স্থাপনা, ঘরবাড়ি, মার্কেট, দোকানপাট এসএ খতিয়ান ও ১৯৬২ সাল হতে দখলীয় সৃজিত খতিয়ানের ভূমির মালিকদের এক নং খাস খতিয়ানে নেয়ার জন্য গোটা শহরের ভূমি খাস খতিয়ানভুক্ত করার জন্য জনসাধারণকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু মামলা করেছে। ৬০-৭০ বছর যাবত নির্বিঘ্নে খাজনা, কর পরিশোধ করে যারা বসবাস ও ব্যবসা করছেন তাদের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা অবিচার।
আরও পড়ুন: কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু
এ বিষয়ে বরগুনার সহকারী কমিশনার নিজাম উদ্দিন বলেন, ৩২ একর ভূমি খাস খতিয়ানে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সবাইকে একে এক নোটিশ দেয়া হবে। আমার এখানে শুনানি হবে। পরে কেউ ক্ষুব্ধ হলে এডিসি রাজস্ব অফিসে শুনানি করতে পারবেন। এরপরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শুনানি হবে। সেখান থেকে তাদের ভূমি কমিশনেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আদালতে দেওয়ানী মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত আমাদের যে নির্দেশনা দিবেন তা আমাদের মানতে হবে। আদালত স্থগিত করলে আমরা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবো।
একাত্তর/এসি
