নরসিংদীতে গলা থেকে সোনার চেন ও কানের দুল কেড়ে নিতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন প্রতিবেশি এক নারী। হত্যার পর তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি করে আলমিরার ভেতরে রেখে দেন। নিখোঁজের সাত ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলার শিবপুর উপজেলার যোশর গ্রামে এ শিশু হত্যা ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম সায়মা আক্তার। সে ওই গ্রামের সারোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিকের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছেন, স্কুল থেকে ফিরে দুপুরে খেয়ে সায়মা খেলতে বের হয়। এদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও তাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। এক পর্যায়ে খোঁজ করতে পাশের বাড়ির হানিফা’র বাড়িতে যাওয়া হয়। সেখানে শিশু কন্যা রাইসার কাছে নিহত সায়মার খোঁজ জানতে চাওয়া হয়। তখন শিশু রাইসা জানায়, তার মা সায়মাকে মেরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে আলমিরার ভেতরে রেখে দিয়েছে।
পরে আশপাশের লোকজন নিয়ে অভিযুক্ত সেলিনার ঘর থেকে সায়মার লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে শিবপুর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত সেলিনাকে আটক করা হয়।
নিহত সায়মার বাবা সারোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্কুল থেকে ফিরে আমার মেয়ে খেলতে বের হয়। তখন তার গলায় একটি চেই ও কানে দুল ছিল। পাশের বাড়ির সেলিনা আমার মেয়ের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় আমার মেয়ে আমাদের বলে দেওয়ার কথা বললে সেলিনা মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে তার শিশু মেয়েই আমাদের বিষয়টি জানিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: কলোনিপাড়া বাজারে আগুন, পুড়লো ১১ দোকান
শিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন মিয়া জানিয়েছেন, কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে হত্যার পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। পরে পুলিশ গিয়ে হানিফা ও সেলিনার ঘর থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। ওই সময় অভিযুক্ত স্বামী ও স্ত্রী দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
একাত্তর/এসি
