ইরানের তেহরানে কুখ্যাত এভিন কারাগারে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক ও বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার জন্য সুপরিচিত এই কারাগার।
রোববার (১৬ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে তার সেই মন্তব্যের পরও কারাগারে আগুন জ্বলার ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে।
অনলাইনে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে কারাগারের ভেতর আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। সেইসাথে শোনা গেছে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
বিবিসি জানিয়েছে, কারাগারে আগুন লাগার ঘটনার সাথে এই আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যেহেতু শত শত আন্দোলনকারীকে ইভিন কারাগারে পাঠানো হয়েছে, সুতরাং দুইটির মধ্যে যোগসূত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়।
তবে এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। কারাগারে আগুন লাগার পেছনে 'অপরাধমূলক উপাদান' রয়েছে বলে দাবি করেছেন এক কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী মনিটরিং গ্রুপ ১৫০০তাসভির-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বৈরাচারীর মৃত্যুর দাবি জানিয়ে কারাগারের বাইরে স্লোগান দেয়া হচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে কারাগারের সীমানার বাইরে থেকে কিছু একটা ভেতরে ছুঁড়ে দেয়ার পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত আটজন আহত হয়েছে জানিয়ে ইরানের গণমাধ্যম বলছে, আর্থিক ও ফৌজদারি অপরাধের কারণে কারাগারে থাকা বন্দীরা দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটান। তবে এতে কোনো রাজনৈতিক বন্দী জড়িত নয় বলে দাবি তাদের।
কারাগারের ভেতর থেকে তেহরানের গভর্নর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, কারাগারের যে অংশে ক্ষুদ্র অপরাধীরা থাকে সেই অংশে দাঙ্গা শুরু হয়, এবং পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এভিন কারাগার নিয়ে অনেক দিন ধরেই পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ রয়েছে। কারাগারের বন্দীদের ওপর নির্যাতন ও অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের আটকে রাখার অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
একাত্তর/এসজে
