বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়ায় এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশপুর হাসপাতালে এবং পরে পরিবারের লোকজন যশোর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম বকুল (৩০)।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের ভোলাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও আহতের ভাই মুকুল জানান, সাত বছর আগে ছোট ভাই বকুলের একই গ্রামের লুৎফর রহমানের কন্যা লতিফার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বকুল মালোয়েশিয়া চলে যান। এরপর থেকে স্ত্রী লতিফার নামে প্রতি মাসে তার আয়ের টাকা পাঠান।
তিনি দাবি করেন, লতিফার নামে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকা স্ত্রীর পাঠিয়েছে।
মুকুল বলেন, এরই মধ্যে তার স্ত্রী খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে বিয়ে করে। বকুল দুই বছর আগে দেশে ফিরে টাকার হিসাব চাইতে গেলে জানতে পারেন তার স্ত্রী আবারও বিয়ে করেছেন।
এরপর থেকে স্ত্রীর কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে সামাজিকভাবে বৈঠক হয়। শুক্রবার বিকালে বকুল তার শ্বশুরবাড়িতে টাকা আনতে গেলে পরিবারের লোকজন তাকে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। এ সময় তাদের নির্যাতনে বকুল মারাত্মক জখম হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় শ্বশুর লুৎফর রহমান, স্ত্রী লতিফা ও তার বর্তমান স্বামী খায়রুলসহ ১০ জনকে আসামি করে শনিবার সন্ধ্যায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বকুলের চাচি শিরিন বেগম বলেন, প্রথমে শ্বশুর পেছনে কোদাল দিয়ে আঘাত করে। এরপর অন্যরা এসে পা গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। বকুল চিৎকার করছিল কিন্তু তারা শোনেনি।
আরও পড়ুন: পুলিশকে কামড়ে হাতকড়াসহ পালানোর ১৭ দিন পর গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বকুলের শ্বশুর লুতফার রহমান বলেন, প্রথমে আমি মারিনি। প্রথমে রাস্তায় তাকে মারা হয়েছে। পরে বাড়িতে ধরে এনে আবার মারা হয়। তখন আমিও মারছি।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মিয়া জানান, মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা শুনে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত বকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একাত্তর/এসি
