আগামী ৩রা ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহীতে বিএনপির কাঙ্ক্ষিত বিভাগীয় সমাবেশ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসতে শুরু করেছেন দলের নেতাকর্মীরা।
শর্ত মেনে অনুমতিও মিলেছে সমাবেশের। সব বাধা উপেক্ষা করে এই সমাবেশ সফল করতে লাখ-লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
আর আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপির সমাবেশ থেকে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বাস-ট্রাক ধর্মঘটের খবরে সমাবেশের তিন দিন আগে থেকেই সভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। অবস্থান নেন মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান ও এর আশেপাশে। তাঁবু খাটিয়ে পার করছেন রাত, আবার সেখানেই চলছে রান্না-বান্না।
জয়পুরহাট, বগুড়া, পাবনাসহ বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে আসা এসব নেতাকর্মীরা বলছেন, সমাবেশে আসতে গিয়ে তাদের পদে পদে বাধা পেতে হয়েছে।
এদিকে সমাবেশের কার্যক্রম সীমিত রাখা, উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেয়া, সমাবেশে আসা-যাওয়ার সময় মিছিল না করাসহ আট শর্তে মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়ার পর গতি পেয়েছে সভাস্থল প্রস্তুতের কাজ।
আর সভাস্থল পরিদর্শন ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে মাঝে মাঝেই তাদের সাথে মিলিত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বলছেন, যত বাধাই আসুক, রাজশাহীর সমাবেশ পূর্ণ থাকবে মানুষে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রায় ৫০০রও বেশি বাস আটকে দেয়া হয়েছে। ফলে পায়ে হেঁটে সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন তাদের নেতাকর্মীরা।
এদিকে রাজশাহী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতই বাধাবিপত্তি সৃষ্টি করা হোক না কেন, গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপির সমাবেশকে কোনভাবেই ব্যর্থ করা যাবে না।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় তিন মামলায় এক জনের ফাঁসি, দুই জনের যাবজ্জীবন
অন্যদিকে বসে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে জানিয়ে বাড়াবাড়ি হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
৩রা ডিসেম্বর রাজশাহীর সমাবেশ সফল করার মধ্য দিয়েই আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ সফল করার বড় ইঙ্গিত দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
একাত্তর/এসজে
