একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ড করোনা ইউনিটে পরিণত করেও রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে। ফাঁকা নেই কোনো আইসিইউ বেড। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসক সঙ্কট। সব মিলিয়ে করোনা রোগী সামলাতে ত্রাহী অবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মোট ১১টি ওয়ার্ডকে করোনা ইউনিট করে রাজশাহী মেডিকেলে চলছে চিকিৎসা। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও একটি ওয়ার্ড। তবুও হচ্ছে না করোনা রোগীর স্থান সংকুলান। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু রোগী বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।
রাজশাহী মেডিকেলে উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানালেন, শুধু বেড বা অক্সিজেনই নয়, করোনা ইউনিটের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি হয়েছে চিকিৎসক সঙ্কটও।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাজশাহীর দুইটি ল্যাবে ৪৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রাজশাহীর ২৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩১ জনের পজিটিভ এসেছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১২ জনের পজিটিভ এসেছে এবং নাটোরের নয়জনের নমুনা পরীক্ষা করে চারজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটের একটি অংশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায় কি না, সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: সীমান্তবর্তী জেলায় করোনা বাড়ছে, উদ্বেগে জনস্বাস্থ্যবিদরা
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর রাজশাহী হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে জানান, এক মাসের মধ্যে ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হবে।
গত ১২ দিনে রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৯৩ জন। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। এর মধ্যে রাজশাহী ১০, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ ও নওগাঁর একজন।
