নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে বিএনপি কিছুটা হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যাকে কেউ চেনেনা, তাকে এই পদে আনাতে নির্বাচনের সঙ্কট নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা খাটো করে দেখার কিছু নেই।
ফখরুল বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে তিনি সরকারপ্রধানের খুবই আস্থাভাজন। রাষ্ট্রপতি নিয়োগে সরকার চাইলে বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলতে পারতো। তবে রাষ্ট্রপতি যেভাবে আসুক, তিনি রাষ্ট্রপতি। তার ভূমিকা দেখার বিষয়।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি দলীয় হবেন নাকি দেশের জন্য কাজ করবেন সেটা তার ওপর নির্ভর করবে।
সরকার আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চায় মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার আলোচনা করতে চায়না। সরকার এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, সে প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবেনা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন নিয়ে সংলাপ করতে পারবেন না। তাই রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এসময় সংঘাত এড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় নেওয়ার আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্য একমাত্র পথ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। বর্তমান সরকারকে সঙ্কট সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
এসময় ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রেসক্রিপশন তো আওয়ামী লীগের ছিলো, তারাই বাদ দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন চলছে, সামনে আরও বেগবান হবে। সরকারের আচরণের ওপরই নির্ভর করবে বিএনপির আন্দোলনের ধরণ।
আরও পড়ুন: আবদুল হামিদের রাজসিক বিদায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত
এদিকে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কাছেও কোনো প্রত্যাশা ছিলো না। তিনি খাঁটি আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। তবে মানুষ হিসেবে খুবই ভালো। তবে তার দিক থেকে তিনি কতটা কী করতে পারতেন, সেটা সবারই জানা।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
একাত্তর/এসি
