ঝিনাইদহের শৈলকুপার এক গ্রামে ঘুমন্ত নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি মোবাইল জব্দের পর তা থেকে মিলেছে শতাধিক নারীর ছবি ও ভিডিও।
বিষয়টি জানাজানির পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। তবে মোবাইলে থাকা সিমের মালিকের হদিশ মেলেনি এখনো।
শৈলকুপার ওই গ্রামের নাম গ্রাম সাপ খোলা। গ্রামের অল্প বয়সী মেয়ে বা নারীদের আতঙ্ক এখন রাত। দিনের বেলা স্বচ্ছন্দে চলতে পারলেও রাতে
তাদের পাহারা দিয়ে রাখেন পুরুষরা। কারণ ভিডিও আতঙ্ক।
রাতে ঘরের জানালা খোলা পেলেই ঘুমন্ত মেয়েদের ভিডিও করে একটি চক্র। কখনো কখনো মেয়েদের হাত-পা টেনে ধরে।
স্থানীয়রা জানান, ১০-১৫ দিন পর পর এই চক্র ফিরে আসে। তারা রাতের বেলায়ই এসব ঘটায়।
ঈদের দিন গভীর রাতে কৌশলে একজনকে ধরার চেষ্টা করেন গ্রামের এক ব্যক্তি। কাউকে আটক না করা গেলেও পাওয়া যায় দুর্বৃত্তের ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোন। এতে পাওয়া যায় শতাধিক নারীর ঘুমন্ত ছবি আর ভিডিও। পরে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে।
ওই ব্যক্তি জানান, ঈদের রাতে তাদের ঘরে জানালা দিয়ে ভিডিও করার সময় টের পেয়ে হাত ধরার চেষ্টা করলে মোবাইল ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
এদিকে মোবাইলে থাকা সিম যার নামে রেজিস্ট্রেশন করা তাকেসহ চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওই চারজনের দাবি, জব্দ করা সিমটি হারিয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে, কেউ লিখিত অভিযোগ করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: সিরিয়াল দেখতে বাধা, অভিমানে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার বর্মন বলেন, কেউ এখনো এ ঘটনায় মামলা করেনি। মামলা হলে আমরা এ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখনো।
অন্যদিকে ঘটনায় জড়িত কাউকেই এখনও আটক করতে না পারায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামের মানুষ।
একাত্তর/আরএ
