আলোচিত দুই জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা কার জিম্মায় থাকবে, এই সংক্রান্ত আপিল শুনানিতে বিচারকের প্রতি আস্থা না থাকায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ একটি আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
সোমবার সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমানের বেঞ্চ আবেদন খারিজ করে। শুনানিতে ইমরান শরীফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার লাভলী। আর জাপানি মায়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
হাইকোর্টের আদেশের কারণে দুই শিশু কার জিম্মায় থাকবে, এ সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে ঢাকা জেলা জজ আদালতে। তবে আদেশের পর আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার লাভলী জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন তারা।
গত ৯ মার্চ জাপানি দুই শিশু জেসমিন ও লাইলাকে বিদেশে নিয়ে যেতে জাপানি মায়ের আবেদন নাকচ করেছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে দুই শিশু কার জিম্মায় থাকবে এ সংক্রান্ত আপিল জেলা জজ আদালতকে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় আদালত।
এ সময় পর্যন্ত দুই শিশু জেসমিন মালিকা মায়ের কাছে ও লাইলা লিনা বাবার কাছে যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাপানি দুই শিশুর মধ্যে ছোট শিশু লিনা বাবার কাছে একদিন ও মায়ের কাছে একদিন করে থাকবে; আর বড় মেয়ে থাকবে মায়ের হেফাজতেই। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
এদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে জাপানে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবারও উচ্চ আদালতে আপিল করেন মা এরিকো। গত ২৯ জানুয়ারি পারিবারিক আদালত দুই শিশু মায়ের কাছে থাকবে বলে রায় দেন। পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ইমরান শরীফ।
২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানে এরিকো ও বাংলাদেশি আমেরিকান ইমরান জাপানি আইন বিয়ে করেন। ১২ বছরের সংসারে তাদের ঘরে আসে তিন কন্যা সন্তান। তবে স্ত্রীকে ডিভোর্সের চিঠি দেয়ার পর সন্তানদের কাস্টডি নিয়ে জাপানের পারিবারিক আদালতে শুরু হয় মামলা।
জাপানের পারিবারিক আদালতে স্ত্রীর কাছে সন্তানদের হেফাজত হারায় বাবা ইমরান শরীফ। ২০২১ সালে গোপনে দুই মেয়ে জেসমিন মালিকা (১২) ও নাকানো লায়লাকে (১১) নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন ইমরান শরীফ। ছোট মেয়ে জাপানে এরিকোর সঙ্গে থেকে যায়।
বিষয়টি জানতে পেরে গত বছর ৭ জুলাই ঢাকায় আসেন এরিকো। পরে সন্তানদের ঠিকানা খুঁজে বের করেন। তবে সন্তানদের জন্য বাংলাদেশে আসার পরপরই শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে না দেয়া, লোক দিয়ে হয়রানি করা হলে আদালতের দ্বারস্থ হন মা এরিকো।
একাত্তর/এআর
