বর্ষার আগেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। জুনের প্রথম ১৬ দিনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২০ জন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মৃত্যুর এই হারকে উদ্বেগজনক বলছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, দ্রুত এডিস মশার বিস্তার ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার হাজার ৬০৩ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৫৭৫ জন। ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৮ জন।
এই অবস্থায় জ্বর হলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতি মুহূর্তেই রোগী আসছে। যাদের বেশির ভাগ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ সিটি এলাকায় মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পর এখন ঢাকা মেডিক্যালে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হারও বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান জানান, উত্তর সিটি এলাকায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। প্রতিদিন এই হাসপাতালে অন্তত ১৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ আসছেন মোহাম্মদপুর, কাজীপাড়া, শেওরাপাড়া এলাকা থেকে।
তিনি জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের সবাই শক সিনড্রোম বা হেমারেজিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।
এদিকে শনিবার দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৭ রোগী। যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ। এদিন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন চার জন। এর আগে বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আর এ পর্যন্তু মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও ভর্তি
দেশে ডেঙ্গু রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর দেশে এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে প্রাণহানি ঘটেছে ২০২২ সালে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। মারা যান ২৮১ জন।
একাত্তর/এসি
