দেশের কল্যাণ ও ভাবমূর্তির প্রতি দায়িত্বশীল থেকে সাংবাদিকতা করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, স্বাধীনতা ভালো, তবে তা বালকের জন্য নয়। অসচ্ছল সাংবাদিক ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অনুদানের অর্থ সহায়তা দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। গেলো ১৪ বছর সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমন এক পেশা যারা সমাজ আর মানুষের ভাগ্য বদলের লড়াইয়ে জীবন পার করেন, তাদের জীবনযাপনে নেই চাকরি বা বেতনের নিশ্চয়তা বা অবসর ভাতা। কর্মজীবনে অসচ্ছল আর যাদের মৃত্যুতে পরিবার সংকটে তেমন সাংবাদিকদের তালিকা করে অর্থ সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (সাংবাদিকরা) যদি ফ্লাট কিনতে চান, সরকারি ফ্লাট- যেগুলো আমরা তৈরি করছি। কিস্তিতে দিবেন, প্রথমে সামান্য কিছু দিয়ে পরে বাকিটা কিস্তিতে দেওয়া যাবে।
খবর দেখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায় সরকার, বলেন তিনি। তবে বিদেশী দূতাবাসে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা এমন সংবাদ করা যা দেশের জন্য কল্যাণকর নয় -সেদিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা ভালো- তবে তাহা বালকের জন্য নহে। তো, কেউ যেন বালক হয়ে না যায়। স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি দায়িত্ববোধটাও থাকতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য কর্তব্যবোধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়তির এই সময়ে অনুদান সব চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে পেশার আওতা বাড়িয়ে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো সময়ের চেয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বেড়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের কারো কারো শরীরে এখনও ২০০১ সালের নির্যাতনের চিহ্ন আছে। সেই কথা মাথায় রেখে সকলকে কাজ করতে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালের কথা চিন্তা করেন। খালেদা জিয়া যখন প্রথম সরকারে আসলো দক্ষিণ অঞ্চলের কি কোন সাংবাদিক যেতে পেরেছিল? সাংবাদিকদের জন্য প্রবেশ নিষেধ ছিলো। অকথ্য অত্যাচার বিএনপি-জামায়াত করেছে সাংবাদিকদের ওপর করেছে।
আরও পড়ুন: জনসংখ্যা সভ্যতা ও অগ্রগতির ধারক-বাহক: রাষ্ট্রপতি
শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় নুন ভাতের বাস্তবতা ছিল দেশে। এখন মাছ মাংসের আলাপ হয়। ৯০ হাজার কোটি টাকায় কেনা বিদ্যুতে ৭ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার উচ্চতায় এখন বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সকলকে দেশের জন্য কাজ করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
একাত্তর/এসি/আরএ
