ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে গুরুগ্রাম জেলায় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটলেও পরে তা ফরিদাবাদ ও পালওয়ালেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহত ছাড়াও বহু স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রায় আড়াই হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু গুরুগ্রামের কাছে একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ওই অঞ্চলের ইন্টারনেট পরিষেবা। পাশপাশি বড় জমায়েত না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হোম গার্ডের দুই জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হোদলের উপ-পুলিশ সুপার সজ্জন সিং মাথায় ও একজন পরিদর্শক পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার গুরুগ্রাম থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরের মুসলিম অধ্যুষিত জেলা নুহ'তে 'ব্রিজ মন্ডল জলাভিষেক যাত্রা'র আয়োজন করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
গুরুগ্রাম-আলোয়ার হাইওয়ে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় একদল যুবক বাধা দেয় তারা মিছিল লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জেরেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক সরকারি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। যারা মিছিলে অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু স্থানীয় একটি মন্দিরে আশ্রয় নেন।
এলাকাজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ এখনও তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে টিয়ার গ্যাসের সেলের পাশাপাশি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের মহাপরিচালক, এডিজিপি (সিআইডি) এবং পুলিশ বিভাগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ করছেন।
এদিকে হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বলেন, নূহতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। নরহর মন্দিরে প্রায় তিন থেকে চার হাজার লোককে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এ সবই ছিল ভিএইচপি-র মিছিলের অংশ। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি প্রথমে এই লোকদের উদ্ধারের জন্য।
একজন জেলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্দিরে আটকা পড়া লোকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাশাপাশি ফরিদাবাদ, পালওয়াল এবং রেওয়ারি থেকে বাহিনীকে ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/আরবিএস/আরবি
