ইউনূসকে নিয়ে যা বললেন শেখ হাসিনা 

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩, ০৮:২২ পিএম

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে বিদেশের মাটিতে কীভাবে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মামলা তুলে নিতে যারা তার পক্ষে থেকে বিবৃতি দিচ্ছেন তাদেরকে ইউনূসের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় পঞ্চদশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার খুব অবাক লাগছে যে, এই ভদ্রলোকের (ইউনূস) যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকে যে, তিনি কোনোকিছু অপরাধ করেননি; তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না।

‘আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তাছাড়া সবকিছু আইনমতো চলে। কেউ যদি এখন ট্যাক্স না দেয় আর শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করে; আর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি লেবার কোর্টে মামলা করা হয়, আমাদের কি হাত আছে যে, সেই মামলা বন্ধ করে দিব? আপনারাই বিচার করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইমেজ: ইয়াসিন কবির জয়

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূস। গ্রামীণ টেলিকমের ১০১ শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী না করা, শ্রমিকদের জন্য তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন না করা এবং লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেয়ার কথা থাকলেও তা না দেয়ার অভিযোগে শ্রম আদালতে ইউনূসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

আর এরি মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি লেখেন ১৬০ বিশ্বনেতা। এদের মধ্যে রয়েছে শতাধিক নোবেল বিজয়ীসহ রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের ব্যক্তিরা।

ইউনূসের মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা চলমান মামলা। আমাদের দেশে তো চলমান মামলা নিয়ে আলোচনাও করি না। কারণ ওইটা বিচারাধীন। যেখানে বিচারাধীন বলে নিজের দেশেই গণ্য করা হয়, সেখানে বাইরে থেকে বিবৃতি এনে মামলা প্রত্যাহার! তো আমি কে মামলা প্রত্যাহার করার? এখানে আমার কোন অধিকারটা আছে আপনারাই বলেন!

বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের তিনটা অঙ্গ একসঙ্গে চলে। একটার ওপর তো হস্তক্ষেপ আমরা করতে পারি না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এই বিবৃতি দিয়েছেন, আমি তাদেরকে আহবান করি, তারা এক্সপার্ট পাঠাক। তাদের যদি এত দরদ থাকে তারা আইনজীবী পাঠাক। যার বিরুদ্ধে মামলা তার সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ তারা খতিয়ে দেখুক।

‘তারাই এসে দেখুক, সেখানে কোনো অন্যায় আছে কি না? আমি তাদেরকে সেই আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইমেজ: ইয়াসিন কবির জয়

প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা একটা বিবৃতি দিয়ে কী করে মামলা তুলবে আমি তো জানি না। কিন্তু তাদেরকে এসে দেখা দরকার, এখানে কী কী অসামঞ্জস্যতা আছে।

গত জুন মাসে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করার অভিযোগে একটি মামলায় ইউনূসের বিচার শুরু করেছে শ্রম আদালত।

ইউনূসকে আসামি করে গত সোমবার গ্রামীণ টেলিকমের ১৮ জন কর্মচারী পাওনা মুনাফা না দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। ইউনূসের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে দুইশর মত মামলা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শ্রম আইন নিয়ে তো আমাদের অনেক কথা শুনতে হয়। সর্বত্র নালিশ আর নালিশ। অথচ শ্রমিকরা অধিকারের জন্য মামলা করলে সেই দায় আমাদের না। এ বিষয় নিয়ে যারা বিবৃতি দিচ্ছেন, তারা এক্সপার্ট, আইনজীবী পাঠাক। তারা এসে দেখুক।

‘কর ফাঁকিতে ধরা পড়লে তাকে তো ফেরত দিতে হবে। তিনি (ইউনূস) দিচ্ছেন তো।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ফিলিপাইনের নোবেলবিজয়ীর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা হয়েছে। দিনের পর দিন সেই মামলায় তাকে চলতে হয়েছে। নোবেলবিজয়ী কারাগারে বন্দিও আছেন।

এক্সপার্ট পাঠালে ইউনূস নিয়ে আরও অনেক কিছু বের হবে বলে মনে করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি এটা যদি একবার পাঠায় তাহলে আরও অনেক কিছুই বের হবে। যেটা হয়ত আমরা কখনো হাতই দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি বেতনভুক এক এমডি বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কীভাবে বিনিয়োগ করে, আর বাণিজ্য করে? এই যে শত শত ইনটেলেকচুয়াল, যারা বিবৃতি দিলেন, তারা কি এই কথাটা একবারও জিজ্ঞেস করেছেন?

‘ব্যাংকে চাকরি করা অবস্থায় আপনি কীভাবে বিদেশে এত টাকা বিনিয়োগ করলেন? ব্যবসা করলেন। আসা যাওয়া করেন, এত কিছু করেন। কোনো নিয়ম নাই। এ ব্যাপারে কোনো খোঁজ নিয়েছেন? কোত্থেকে টাকাটা আসলো? টাকাটা পেল কোথায়? কীভাবে এই টাকাটা উপার্জন করলো?’

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারাও কি কখনো জিজ্ঞেস করেছেন? করেননি। এ রকম কেউ একজন রাজনীতিবিদ করলে আপনারা কী করতেন? লিখতে লিখতে কলম টলম তো একেবারে শেষ হয়ে যেত। তো কেন করেন নি?

তিনি বলেন, দুর্নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান করতে বলছেন। এখন দুর্নীতিবাজ ধরা পড়লে যদি পছন্দ হয় তার কোনো দোষ নাই। অপছন্দ হলে তাকে ভালো করে আচ্ছামতো..

‘আমি আহ্বান করবো, তারা এক্সপার্ট পাঠাবে। ভালো করে দেখে যাক। আর না হলে আমার দেশের আইন, আদালত আছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আদালত স্বাধীনভাবেই কাজ করবে। কে বিবৃতি দিল আর না দিল সেটা আদালত বিবেচনায় নেবে কেন?  

আরবি
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে।
দেশের সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি ডাবল ডেকার স্লিপার কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। 
ভারতের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাড়ে সাত কোটি ইউরো বা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার গোলাবারুদ চুক্তির বড়সড় কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত ছোট্ট দেশ এস্তোনিয়ায়।...
ধর্মের নামে কোনো বিভাজন চায় না বিএনপি সরকার বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর