গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে মারা গেছে পাঁচজন। বিভিন্ন জেলায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও কমেনি। চিকিৎসকরা বলছেন, বৃষ্টি ও গরম, এই দুইয়ের কারণে এখনই নিয়ন্ত্রণে আসবে না এডিস মশার বংশবৃদ্ধি।
এদিকে ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে মশা নিধন অভিযান জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। একাত্তরের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের তথ্য ও ছবিতে প্রতিবেদন।
বরিশাল
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তিনজন। এরমধ্যে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যালে একজন, পিরোজপুরে একজন ও ভোলায় মারা গেছেন একজন।
বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় নয়শো।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্যালাইনের চাহিদা বাড়লেও এখনো সঙ্কট তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক।
বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘অনেক জায়গায় শর্টেজের কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা সেক্ষেত্রে বসে নেই। মাঠ পর্যায়ে যাতে স্যালাইনের অভাব না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভাগীয়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছি। যাতে রোগীদের ভোগান্তি না হয়।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীতেও প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১০৬ জনসহ এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। ভাদ্র মাসে বৃষ্টি ও গরমের কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পটুয়াখালী আড়াইশ শয্যা মেডিকেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। তাপমাত্রাও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই মশার প্রজনন হার বেশি। প্রাকৃতিকভাবে কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সচেতনতা বাড়িয়ে মশক নিধন অভিযান জোর দার করে যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সেখানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৬, যাদের বেশীর ভাগই নারী ও শিশু।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা.নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের যে রোগীরা আসছেন তারা খুব দেরি করে আসছেন। যে কারণে গতবারের তুলনায় এবার মৃত্যুর অনেক বেশি।’
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ মেডিক্যালেও ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন একজন। তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল থেকে ময়মনসিংহে এসেছিলেন।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জোরদার হয়েছে মশা নিধন অভিযান। কিন্তু এরপরও কমেনি রোগী বেড়ে যাওয়ায় হার।
রোববার ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়া কোনো রোগীকে ফ্লুইড চিকিৎসা ছাড়া ঢাকায় পাঠানো হলে তার ঝুঁকি বরং আরও বাড়বে। তাই দেশের অন্য জেলার ডেঙ্গু রোগী ঢাকা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য না পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
গত পহেলা জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত মারা গেছে ৮২২ জন। তবে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখন ঢাকার বাইরের রোগীদের চাপটাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে জেলার রোগীদের আর ঢাকার হাসপাতালে না পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুতে ১৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড
জেলার ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় না আনার অনুরোধ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের