ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রধান বিষয় হলো ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। যা যে কোনো হাসপাতালেই দেয়া সম্ভব। গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়া কোনো রোগীকে ফ্লুইড চিকিৎসা ছাড়া ঢাকায় পাঠানো হলে তার ঝুঁকি বরং আরও বাড়বে। তাই দেশের অন্য জেলার ডেঙ্গু রোগী ঢাকা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য না আনার বা না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে গুরুতর রোগীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রোববার ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলা হয়। ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক আহমেদুল কবির।
আহমেদুল কবির বলেন, পহেলা জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ দিন পর্যন্ত মারা গেছে ৮২২ জন। তবে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখন ঢাকার বাইরের রোগীদের চাপটাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে জেলার রোগীদের আর ঢাকার হাসপাতালে না পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকায় রোগী বাড়ার কারণে স্যালাইনসহ সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই জটিলতা দেখা দিয়েছে। ওষুধ, আইভি স্যালাইনসহ চিকিৎসা সামগ্রীর সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আইভি স্যালাইনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান শিরায় দেওয়া স্যালাইন মজুত করছে কি না, তা তল্লাশি করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আহমেদুল কবির বলেন, সরকার ডেঙ্গুর সব ধরনের পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। কেউ যেন নির্ধারিত ফির বেশি মূল্য না নেয়, তার জন্য সিভিল সার্জনদের নজরদারি বাড়াতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নিজ নিজ জেলার হাসপাতাল গুলোর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একাত্তর/এসি
ডেঙ্গুতে ১৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গু জ্বরের ভয়ঙ্কর রূপ দেখছে চট্টগ্রাম