প্রতিমাসেই রূপ পাল্টাচ্ছে ডেঙ্গু। হাজির হচ্ছে নিত্য নতুন উপসর্গ নিয়ে। এখন জ্বর না হলেও ধরা পড়ছে ডেঙ্গু। লক্ষণ বদলে যাওয়ায় রোগটি বুঝতে না পেরে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। যাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী। এই রোগীদেরই মৃত্যুহার বেশি, বলছেন চিকিৎসকরা।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে এখনও রোগীদের চাপ। রোগী বাড়ার পরই এই হাসপাতালে আলাদা ফিভার সেন্টার খোলা হয়েছে। সেখানে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ থাকা রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
রোগীরা জানান, পরীক্ষার পর হুট করেই তারা জানতে পারেন প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। কোন ধরনের উপসর্গ ছাড়াই অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গুতে।

শঙ্কার বিষয় হলো এখন প্রতিমাসেই নিত্য নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে ডেঙ্গু। কিছুদিন আগেও তীব্র জ্বর শরীরে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা আর র্যাশ ওঠা ছিলো ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে জ্বর ছাড়াও পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই শঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে চলে যাচ্ছে রোগী।
মেডিসিন চিকিৎসক অধ্যাপক জোনায়েদ হোসেন খান বলেন, এবারই প্রথম আমরা জ্বর ছাড়া ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি। আগে আমাদের মধ্যে ধারণা ছিলো- ডেঙ্গু হলেই জ্বর থাকবে। এক্ষেত্রে রোগীরও বুঝতে সময় লাগছে যে, তার ডেঙ্গু হয়েছে।
পরিসংখ্যান না থাকলেও চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে আইসিইউতে মৃত্যুর বেশিরভাগ রোগীই ঢাকার বাইরে থেকে আসা। এই রোগীদের ক্ষেত্রেও লক্ষণ বুঝতে না পেরে দেরিতে হাসপাতালে আসাটাই মৃত্যুর কারণ।

কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ডেঙ্গু সর্বশেষ স্তরে যারা আছেন- তাদের চিকিৎসা করাটা ঝুঁকির হয়ে যায়।
আগে জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার কথা বলতেন চিকিৎসকরা। এখন যে কোন শারীরিক অসুস্থতাতেই ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু কমেছে
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল যুব মহিলা লীগ নেত্রীর