স্বতন্ত্র বা ডামি প্রার্থীদের দলের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করার কথা বলা হলেও এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফ্রি স্টাইল হবে না।
মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ডামি প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়টা স্পষ্ট হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফ্রি স্টাইল হবে না।
গত ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে গণভবনে মতবিনিময় সভায় দলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা ডামি প্রার্থী হতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
পাশাপাশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এরপর বিভিন্নস্থানে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও দলীয় পদে থেকে দলের প্রতীকের বাইরে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ কারোরই নেই।
তারপরও পদধারী আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও বর্তমান কয়েকজন সংসদ সদস্য মনোনয়ন না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এসব প্রার্থীদের বিষয়ে দলের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা হবে
৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় জোট সঙ্গীদের সঙ্গে কীভাবে আসন সমন্বয় করা হবে তা নিয়েও এদিন কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ১৪ দলের কারা কারা মনোনয়ন চায়, সেটা দেখতে হবে। যারা বিজয়ী হবেন তাদের অবশ্যই মনোনয়ন দেয়া হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাতে সময় আছে। এর মধ্যে জোটের আসন সমন্বয় করা হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, নৌকার প্রার্থী থাকলেও জোট বা শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হলে, সমন্বয় করে আসন ছেড়ে দেয়া হবে।
গত ১৫ নভেম্বর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদদের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।
মনোনয়ন ফরম বিতরণ করে তা যাচাই বাছাই করে রোববার ২৯৮টি সংসদীয় আসনে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ।
জোটের সঙ্গে সমন্বয় হলে কোন কোন ছাড়া হবে তা অবশ্য দলের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে জাসদের ইনুর আসন এবং জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানের আসন ফাঁকা রা খা হয়েছে।
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া ১৪ দলীয় জোট। এই জোটে রয়েছে- জাসদ (ইনু), সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ, তরিকত ফেডারেশন এবং জেপি।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর ১৩টি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। শরিকদের অনেকেই লড়েন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে।
এবারের ভোটেও নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট করার কথা জানিয়ে ১৪ দলের ছয়টি দল নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।
১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে মহাজোট গড়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করায় জোট গঠনের প্রয়োজন হয়নি।
তবে ২০১৮ সালে বিএনপি আবার নির্বাচনে ফিরলে জোটগতভাবেই ভোট করে আওয়ামী লীগ।
এদিকে বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগ থেকে স্বাগত জানানো হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপির কোউ কেউ নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব দেখে কৌশল নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের লক্ষ্য, অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা। আর এটা করে দেখিয়ে দিতে চাই, সরকার তার ওয়াদা পূরণ করেছে।
বিদেশিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ১০০ টি পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে। সে সংখ্যা আরো বাড়বে।
নৌকার মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে শরিকরা