সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে গত তিন দিনে ১১টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বরে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে চারটি, গাজীপুরে পাঁচটি, সিলেটে একটি ও দিনাজপুর একটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনটি কাভার্ড ভ্যান, পাঁচটি বাস ও তিনটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসব আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৯টি ইউনিট ও ৯৬ জন মানুষ কাজ করে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ২৪৪টি অগ্নিসংযোগের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ২৩৮টি যানবাহন ও ১৫টি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ঘটনা রয়েছে।
অগ্নিসংযোগ করা যানবাহনের মধ্যে বাস ১৪৯টি, ট্রাক ৩৯টি, কাভার্ড ভ্যান ২০টি, মোটরসাইকেল আটটি ও অন্যান্য গাড়ি ২২টি।
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে হরতাল-অবরোধ অব্যঅহত রেখেছে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের সমমনা দলগুলো। তাদের দাবি, ‘একতরফা’ নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনী তৎপরতায় যুক্ত হওয়ায় কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারও করেছে দলটি।
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হবার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
একই দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে সেই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি গণফোরামের ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয়। ভোটে ভরাডুবি ঘটে বিএনপির।
এবার ২০১৪ সালের মত একই দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। ফিরে এসেছে সংঘাতের পরিবেশ। যানবাহনে অগ্নিংযোগ আর নাশকতার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোজই অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
