পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের খবর আসতে না আসতেই দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানেই পণ্যটির দাম কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেশিরভাগ বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২১০ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। এমনকি দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে পেঁয়াজ উধাও হয়ে যাবার খবরও আসছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন এ মাসের শেষে আগাম দেশি নতুন পেঁয়াজ আসলে দাম কমে যাবে। আগের ধাপে পেঁয়াজের কেজি দেড়শ’ টাকায় উঠার পর দুই সপ্তাহ ধরে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় নেমেছিলো দেশি পেঁয়াজ। আর ভারতীয় ৮০ থেকে ৯০ টাকার। কিন্তু নিজেদের দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে দুই দিন আগে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত।
এ খবরেই দেশের বাজারে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম! শুক্রবার ভোরেও শ্যামবাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে পাইকারিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি। শনিবার ভোরে তা ১৫০ টাকায় উঠেছে। শুক্রবার দেড়শ’ টাকা কেজির দেশি পেঁয়াজ শনিবার শ্যামবাজারে বিক্রি হয় ২১০ টাকায়।
শ্যামবাজারের বেশিরভাগ আড়তেই ঘরই এখন পেঁয়াজের মজুদ নেই। আড়তদারদের আশা, দিন পনেরোর মধ্যে দেশি আগাম জাতের নতুন পেঁয়াজ আসলে দাম একটু কমবে। তবে গত দুই দিনে আরও অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের খুঁচরা বাজার। রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একেক বাজারে বিক্রেতারা পেঁয়াজের একেক রকম দাম রাখছেন। বেশিরভাগ বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২১০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে মানভেদে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকায়।
দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি ও মান এখন ততটা ভালো না হওয়ায় ক্রেতাকে আমদানি করা পেঁয়াজ কিনতে দেখে গেছে। চীন থেকে আমদানি করা বড় পেঁয়াজের দাম পড়েছে ১২০–১৩০ টাকা। বাজারে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এই সুযোগে তার দামও কেজিতে ১০–২০ টাকা বেড়ে ৮০–৯০ টাকায় উঠেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ডিসেম্বরে এলপি গ্যাসের দাম বাড়লো