জাতীয় পার্টির জন্য ২৬টি আসন এবং ১৪ দলের জন্য ছয়টি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
রোববার জোটের প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে অবহিত করতে নির্বাচন কমিশনে যান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
জোট শরিক ও জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে নির্বাচন করবে।
দলের প্রার্থী ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।
ইসিতে বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের মিত্রদের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করছি আমরা। আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি আসনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছি। বাকিগুলোতে আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন।
বিকেল পৌনে চারটার দিকে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের কক্ষে যান বিপ্লব বড়ুয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।
যেসব আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলো আওয়ামী লীগ-


১৪ দলের শরিকদের জন্য যে ছয়টি আসন-

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করা হয় মহাজোট। ওই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মহাজোট।
এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না করেই নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। ওই ভোটে জোট না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে, এমন ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। এসব আসনেই জয় পায় দলটি। ভোটের পর সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। আবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও থাকেন দলটির কয়েকজন। দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে না থাকলেও ভোটে আসন ভাগাভাগি করে। গত সংসদ নির্বাচনের তাদেরকে দেওয়া হয় ২৬টি আসন, এর মধ্যে তারা জয় পায় ২৩টিতে। এই সংসদেও বিরোধীদলের আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। তবে কোন কোন আসনে সমঝোতা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষের নেতারাই মুখ খোলেননি। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই বিষয়টি পরিষ্কার হলো।
