গেলো ১৫ বছরে ২৪টি বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকারও বেশি লুটপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের থেকে এ তথ্য নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই হিসাব তুলে ধরেন।
এসময় বাংলাদেশের অর্থনীতির পাঁচ চ্যালেঞ্জের কথাও জানায় সিপিডি। সেগুলো হলো- সরকারি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাত, বর্হিঃখাত, ঋণ ও শ্রম অধিকার ইস্যু।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ঋণ, অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ঋণ, অর্থ লোপাটসহ নানান ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
সিপিডির মতে, ২০১৪ সালের পর মুষ্টিমেয় পুজিঁপতির হাতে জিম্মি হয়েছে ব্যাংকিং খাত। আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে এসব পুজিঁপতি অর্থ লুটপাট করেছে এবং তাতে নীরব সায় ছিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের।
গেলো তিন বছরে চাল-ডালের মতো ৩৪টি নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে সর্ব নিম্ন ৯ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত। দেশের দুই ভাগে বিভক্ত যে অর্থনীতির ধারা চলছে, তাতে সব খাতে ক্ষত তৈরি করছে বলেও মনে করে সিপিডি।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ কানে না তুলে চরম উদাসীনতা দেখানো এবং নীতি নির্ধারকদের চূড়ান্ত অহমিকায় কষ্টে অর্জিত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান হুমকির মুখে বলে মনে করে সিপিডি।
সিপিডি বলছে, ব্যাংক ঋণের সুদ আর ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংস্কার পরিস্থতি উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
সিপিডির মতে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলায় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। রাজস্ব আহরণ কাঙ্খিত মাত্রায় হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে মানুষের কষ্ট বাড়ছে।
ব্যাংক ঋণ খেলাপি এবং যারা অবৈধ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেও মনে করে সিপিডি।
সিপিডি জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তাদের মতে, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হবে না। সরকারি ব্যয় কম করার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। গেলো বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়া হয়। আইএমএফের শর্ত পূরণ হয়নি।
সিপিডির গবেষকরা জানান, গত ১০ বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণের বেশি। ৪২ হাজার কোটি থেকে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংক খাত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে, অর্থনীতিতে কাঙ্খিত ভূমিকা রাখতে পারছেনা, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে বলেও মনে করেন সিপিডির গবেষকরা।
