টানা তিন দিনের হাড় কাঁপানো শীতের পর রাজধানীতে সূর্যের দেখা মিলেছে। যদিও ছিলো মেঘ আর সূর্যের লুকোচুরি। এতে ক্ষণিকের জন্য হলেও স্বস্তি আসে নগর জীবন। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী দু’দিনের মধ্যেই কমবে শীতের তীব্রতা। তবে সপ্তাহখানেক পরই আসবে আরেকটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
গেলো তিনদিন রাজধানীতে সূর্যের দেখা মেলেনি। সোমবার সকালেই কুয়াশা ভেদ করে দেখা দেয় সোনালী সূর্য। কুসুমরোদে কমে হাড় কাঁপানো শীতের দুর্ভোগ। তাপমাত্রা কিছু বাড়লেও শীতের অনুভূতি আছে আগের মতোই। যদিও দুপুরের পর আবারও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে নগরী।
সেই সঙ্গে বইতে শুরু করে ঠান্ডা বাতাস, নগর জীবনে আবারও ফিরে আসে হিম ধরানো শীত। তবে যত কষ্ট আসুক, জীবন জীবিকার জন্য মানুষকে ছুটতে হয়। কোথাও কোন কিছু থেমে নেই। শীতের থেকে সুরক্ষা কম হলেই শীতজনিত রোগে কাবু করছে অনেককে, এরিমধ্যে আবার চোখ রাঙাচ্ছে করনো ভাইরাস।
রাজধানীতে, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য চার ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে; যা রোববার ছিলো তিন। একইভাবে দেশের ২৫ জেলার তাপমাত্রা এখন ১২ ডিগ্রির নিচে। এর মধ্যে দিনাজপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, গোপালগঞ্জ ও ভোলা জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, জানুয়ারী মাসে রাতের গড় তাপমাত্রা থাকে ১০ ডিগ্রি। এখন আছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সূর্যের আলো আসতে পারছে না। এ কারণেই ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিলো তীব্র শীতের অনুভূতি। তবে, এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই।
১৮ তারিখ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দেশের অনেক জায়গায় দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব জুড়েই এখন গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এলনিনো সক্রিয় থাকায় ২০২৪ সাল হবে উত্তপ্ত বছর।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো বরিশালে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রোববার ছিল দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৮, যা গতকাল ছিল ১৪ ডিগ্রি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান, নৌযান ও সড়কে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিকে, রাজধানীর ফুটপাথগুলোতে জমে উঠেছে শীতের কাপড়ের বেচা বিক্রি। গেলো কয়দিন শীত বেশি থাকায় বিক্রিও ছিলো বেশি। তবে মূল্যস্ফীতি হানা দিয়েছে ফুটপাথের দোকানেও। বেড়েছে সব রকম গরম কাপড়ের দাম। ক্রেতারা বলছেন, গেলো বছরের তুলনায় এবার শীত পোশাকের দাম বেশি।
