মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া রজনীগন্ধা ফেরিতে ছোট-বড় মিলে মোট ৯টি ট্রাক ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এই নয় ট্রাকের একটি বড় ট্রাক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ।
ফেরির সেকেন্ড ড্রাইভার হুমায়ূন কবির (৩৯) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, যানবাহন নিয়ে ফেরি ডোবার সংবাদ সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরিচা ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলে ডুবুরিয়া গিয়ে কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
তিনি আরও জানান, ডুবে যাওয়া ফেরিতে ৭টি ছোট ট্রাক ও ২টি বড় ট্রাক ছিল। ফেরি উল্টে গিয়ে এর বেশকিছু অংশ পানির ওপরে ভাসমান ছিল। ফেরির সেকেন্ড ড্রাইভার হুমায়ূন কবির (৩৯) নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের দশজন ডুবুরি দলের একটি টিমসহ তিনটি ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। জেলার স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিদল ছাড়াও বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে।
এদিকে পাটুরিয়ায় ফেরিডুবি তদন্তে দুই কমিটি গঠন করা হয়েছে। রজনীগন্ধা-৭ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ।
বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানান মানিকগঞ্জের ডিসি রেহেনা আক্তার ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল।
জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর দুই কমিটিতেই পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা জেসমিন। সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি দুটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে রজনীগন্ধা ফেরিটি নয়টি গাড়ি নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে এটি মাঝ নদীতে নোঙর করে রাখা হয়। আজ সকালে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের কাছে একটি বাল্কহেড ফেরিটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম। এছাড়া প্রত্যয় নামে আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
